বন্ধ আদালতে জামিন আবেদন ও সম্পাদন করায় আইনজীবী বরখাস্ত
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Friday, 8 January, 2021, 6:35 PM
বন্ধ আদালতে জামিন আবেদন ও সম্পাদন করায় আইনজীবী বরখাস্ত
বন্ধ আদালতে ছয় বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে করা স্পর্শকাতর মামলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক কিশোরের জামিন আবেদন ও সম্পাদন করায় আইনজীবীকে ৩০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছে টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতি। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) ওই জামিন আবেদন ও সম্পাদন করেন অভিযুক্ত আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা অ্যাভোকেট বার সমিতির কার্যকরি কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া আইনজীবী সৈয়দ সাইফুল আলম টিটু জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সদস্য।
বার সমিতি সূত্রে জানা যায়, ৫ জানুয়ারি জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক প্রবীণ আইনজীবী বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। প্রবীণ আইনজীবীর মৃত্যুজনিত কারণে আর জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির প্রথা অনুসারে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ বাহাদুর এজলাসে ডেথ রেফারেন্স বা ফুল কোর্ট রেফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাডভোকেট বার সমিতির প্রথা অনুসারে ওইদিন আদালতের সকল বিচারিক কার্যক্রম মুলতবি রাখার সিদ্ধান্ত দেন জেলা ও দায়রা জজ। তবে বার সমিতির প্রথা ভেঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি মোকদ্দমায় জামিন আবেদন ও সম্পাদন করেন জেলা এডভোকেট বার সমিতির সদস্য এডভোকেট সৈয়দ সাইফুল আলম টিটু। আসামি নাবালক হওয়ায় আদালতের বিচারক তাকে জামিনে মুক্তি দেন। এর মাধ্যমে ওই আইনজীবী বার সমিতির প্রথা আর শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তবে বার সমিতির প্রথা ভেঙ্গে ও শৃঙ্খলা নষ্ট করে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি মোকদ্দমায় জামিন আবেদন ও সম্পাদন করেন জেলা এডভোকেট বার সমিতির সদস্য এডভোকেট সৈয়দ সাইফুল আলম টিটু।
সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা এডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, বারের প্রথা ভেঙে ও শৃঙ্খলা নষ্ট করার কারণে জেলা এডভোকেট বার সমিতির সদস্য এডভোকেট সৈয়দ সাইফুল আলম টিটুকে ৩০দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়াও সাময়িক বরখাস্ত কেন চুড়ান্ত ভাবে করা হবে না এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে পরিচালিত আদালতের মাধ্যমে বারের ওই প্রথা ব্যতয়ের বিষয় নিয়ে রোববার (৯ ডিসেম্বর) আমাদের নিয়ে বসবেন জেলা ও দায়রা জজ বলেও জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আইনজীবী সৈয়দ সাইফুল আলম টিটু।
প্রসঙ্গত, ৩ জানুয়ারি জেলার মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া গ্রামে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ওই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব (১৬)এর বিরুদ্ধে। রাকিব উপজেলার কালামাঝি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার পরের দিন সোমবার (০৪ জানুয়ারি) দুপুরে শিশুটির মা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। মামলা রুজুর পর কিশোর রাকিব (১৬)-কে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এরপর (৫ জানুয়ারি) পুলিশ হেফাজতে রাখাথাকা রাকিবকে বিধি মোতাবেক শিশু আদালতে চালান দেন মামলার তদন্তকারী মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফ। সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন কিশোর রাকিবকে জামিনে মুক্তি দেন। এ মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ইলিয়াস হোসেন মনি আর বিবাদী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ সাইফুল আলম টিটু।