চোখে ‘বাম’ লাগিয়ে কাবু করে কেড়ে নেওয়া হয় সর্বস্ব। আর এক্ষেত্রে টার্গেট করা হয় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের। চট্টগ্রামে এমন ছিনতাইকারী চক্রের চারজনকে অস্ত্র-গুলি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মালামালসহ গ্রেফতার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে চলছে অভিযান।
দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এবং আছাদগঞ্জে প্রতিদিনই নগদ টাকায় পণ্য কিনতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসেন ব্যবসায়ীরা। সাথে নগদ টাকা থাকার কারণে সহজেই তারা ছিনতাইকারীদের শিকারে পরিণত হন। হয়রানির ভয়ে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ীরা মামলাও করেন না। তাই দিনদিন দাপট বাড়ছিল ছিনতাইকারী গ্রুপগুলোর।
মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে এ ধরণের একটি ছিনতাইকারী গ্রুপকে শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
সিএমপির উপকমিশনার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় এই কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ওই চক্রটি। তখন তাদের আমরা হাতেনাতে ধরে ফেলি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করে, মূলত যেসব ব্যবসায়ী শাহ আমানত সেতু এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে খাতুনগঞ্জে যাওয়ার ট্যাক্সি খুঁজে তাদের সাথে ছিনতাইকারী গ্রুপের সদস্যরাও উঠে যায়। ছিনতাইকারীদের এই দলে রয়েছে বেশ কয়েকজন অটোরিকশা চালক। অনেক সময় অটোরিকশা চালকরাও সাংকেতিক ভাষায় কথা বলে ব্যবসায়ীর তথ্য ছিনতাইকারীদের জানিয়ে দেয়।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, গাড়ির ড্রাইভার তাদের সংকেত দেয়। পরে ছিনতাইকারীরা যাত্রী সেজে গাড়িতে ওঠে। পরবর্তীতে তারা সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে যাত্রীর চোখের মধ্যে বাম লাগিয়ে সব কিছু ছিনিয়ে নিয়ে নেয়।
আটককৃত চারজনের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক ছিনতাই মামলা রয়েছে। এমনকি একাধিকবার তারা গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছে।