নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদের ফের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
একই মামলায় তিনদিনের রিমান্ড শেষে আজ ফের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মবিনুল ইসলাম।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্রী প্রাণ নাথ রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক দুইদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে, বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর তাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
গত ২৫ অক্টোবর রাতে ল্যাবএইডের সামনে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনায় পরদিন সোমবার ধানমন্ডি থানায় ইরফান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরই মধ্যে মামলার আসামি হাজী সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক দীপুকে গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করলে তাকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
২৬ অক্টোবর পুরান ঢাকার দেবি দাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফান ও জাহিদুলকে গ্রেফতার করে র্যাব। অভিযানে ইরফানের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল ও একটি এয়ারগান উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে এবং কয়েক বোতল মদ পাওয়ায় মাদক আইনে চকবাজার থানায় মামলা করা হয়।
অভিযানে ইরফানের সহযোগী জাহিদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল উদ্ধারের অভিযোগে অস্ত্র আইনে ও ৪০৬ ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে মাদক আইনে মামলা করা হয়। অভিযানে সেলিমকে মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহারের অপরাধে দেড় বছর ও জাহিদুলকে ওয়াকিটকির জন্য ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সেলিমপুত্র ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজায় কারাগারে যাওয়ায় এরই মধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।