ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১৮ মে ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কুড়িগ্রামে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আশিককের মৃত্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আহম্মেদুল কবির,কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Monday, 18 May, 2026, 6:11 PM

কুড়িগ্রামে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আশিককের মৃত্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কুড়িগ্রামে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আশিককের মৃত্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

চাচার কূটকৌশলে বিবাহিত-অছাত্র আশিক হয়ে যান ছাত্র। আন্দোলনের সঙ্গে লেশমাত্র সম্পর্ক নেই, অথচ বনে যান আন্দোলনকারী। বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে মৃত্যুর পর এই আশিক হয়ে যান জুলাই শহীদ। গেজেটেও ওঠে তাঁর নাম, মেলে সরকারি অর্থ সহায়তাও। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়, যেখানে আসামি করা হয় স্থানীয় সাংবাদিকদের। 

আজ ১৮ মে দৈনিক কালে কণ্ঠে 'হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা' শিরোনামে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে জুলাই আন্দোলনে শহীদ দাবী করা আশিককে নিয়ে সর্বত্র মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায় পাতায় চোখ রাখছে মানুষ। কমেন্ট সেকশনে তাকালে মনে হবে আশিক হত্যা মামলায় স্থানীয় সাংবাদিকদের আসামী করায় প্রকাশিত সংবাদটি মানুষের মূল আকর্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা: অনুসন্ধানী
রিপোর্টিতে মূলতঃ সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে যুগে যুগে কীভাবে হামলা  নির্যাতন এবং একই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় হয়রানি হয়ে আসচ্ছে  তার একটি সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। 

অনুসন্ধানী রিপোর্টিতে কুড়িগ্রামে বিক্ষত সাংবাদিকতার কথা বলতে গিয়ে রিপোর্টার বলেন, "আমরা অনুসন্ধানের যত গভীরে যাই ততই বিস্মিত হই। কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার বুড়াবুড়ী সাতভিটা এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান দীর্ঘদিন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে জানতে পারেন, ছাত্র পরিচয় দিলেই ফ্রিতে চিকিৎসা মেলে।
চাচার কূটকৌশলে বিবাহিত-অছাত্র আশিক হয়ে যান ছাত্র। আন্দোলনের সঙ্গে লেশমাত্র সম্পর্ক নেই, অথচ বনে যান আন্দোলনকারী। বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে মৃত্যুর পর এই আশিক হয়ে যান জুলাই শহীদ। গেজেটেও ওঠে তাঁর নাম, মেলে সরকারি অর্থ সহায়তাও। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়, যেখানে আসামি করা হয় স্থানীয় সাংবাদিকদের।

এই মামলায় আসামি করা হয় কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি আব্দুল খালেক ফারুক, নিউজ২৪ টেলিভিশনের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির সূর্য এবং এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি ইউসুফ আলমগীরকে।

মামলার নথিতে দেখা যায়, এ মামলার বাদী কুড়িগ্রাম পৌর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি রুহুল আমিন। আন্দোলনে সম্পৃক্ত নেতৃস্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেননি। তবু কেন তিনি এ মামলার বাদী হলেন, সাংবাদিকদেরই কেন আসামি করলেন"
—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে অনুসন্ধানী রিপোর্টার যোগাযোগ করতে চান মামলার বাদী রুহুল আমিনের সঙ্গে। বাদী আপত্তি জানান। মোবাইলে এ বিষয়ে আলাপ করতে গেলে প্রশ্ন শুনেই তিনি খেপে যান। রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, ‘আপনি তো স্বৈরাচারের দোসর।’

সাংবাদিকদের আসামি করা এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা থাকতে আপনি কেন বাদী হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি একজন জুলাইযোদ্ধা, এটি আমার দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই আমি বাদী হয়েছি।’ এক পর্যায়ে তিনি মামলার এজাহার দেখার পরামর্শ দিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্টারকে বলেন, ‘এজাহারে যা উল্লেখ করেছি, সেটাই সত্য। আপনার আরো কিছু জানার থাকলে কোর্টে শুনানি হবে, সেখানে আসেন, কথা হবে, দেখা হবে।’

অনুসন্ধানী রিপোর্টে এও বলা হয়, তৎকালীন সদর থানার ওসি হাবিবুল্লাহর কারসাজিতে আশিকের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলাটি করা হয়েছিল। তিনিই ছিলেন এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। বর্তমানে নীলফামারীর ডোমার থানায় কর্মরত হাবিবুল্লাহর সঙ্গে রিপোর্টার যোগাযোগ করে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সব অস্বীকার করেন। তাঁর দাবী, ‘আমি এগুলো কিছু জানি না। আমি এসবের দায়িত্বে ছিলাম না।’

এদিকে অনুসন্ধানী এ রিপোর্টটি আজ কুড়িগ্রাম জেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষদের নাড়িয়ে দিয়েছে। বেশিরভাগ সাংবাদিক আশিক হত্যা মামলা যেহেতু আদালতে চলমান সেই বিষয়ে কিছু বলতে না চাইলেও প্রত্যেকেই জানিয়েছে, এই মামলায় কুড়িগ্রামের যে তিনজন সাংবাদিককে আসামী করা হয়েছে আর যাই হোক হত্যাকান্ডের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি কতোটুকু যুক্তিসঙ্গত ও সত্য আদালত সঠিক বিচারই করবে বলে তারা আশাবাদী।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status