ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৮ জুন ২০২৬ ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ডাব বিক্রি করে বাড়ি করলেন আশরাফ আলী
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 20 October, 2020, 8:03 PM

ডাব বিক্রি করে বাড়ি করলেন আশরাফ আলী

ডাব বিক্রি করে বাড়ি করলেন আশরাফ আলী

পরিবার আর সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর থেকে প্রায় পনের বছর আগে ঢাকায় চলে আসেন মো. আশরাফ আলী। কারওয়ান বাজারে শুরু করেন কাঁচা মালের ব‍্যবসা। এই ব্যবসা করতে গিয়ে বড় রকমের লস দেন। ওই সময় এলাকা থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় এনে পটল বিক্রি করতে গিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো লোকসান দেন। এরপর আবারও ২০ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে হতাশার সাগরে ডুবে যান তিনি।

একদিকে ব‍্যবসা শেষ। অন্যদিকে পরিবার ও ছোট ছোট বাচ্চারা না খেয়ে থাকবে এসব চিন্তায় দিশেহারা। দু'চোখে ঘুম নেই আশরাফ আলীর। কারওয়ান বাজারে ঘুরে বেড়ান কিন্তু সাহস পান না নতুন করে আবার কোনো ব্যবসা শুরু করার। কী করবেন সেটিও ভাবতে পারছেন না। পকেটেও নেই টাকা। কিন্তু তিনি হতাশায় হারিয়ে যাননি। অভাব, লোন সবকিছুকে মাথায় নিয়ে নতুন করে শুরু করার পথ খুঁজতে লাগলেন।

আশরাফ আলীর ভাষায়, কাঁচা মালের ব‍্যবসায় ধরা খেয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাই। বাংলা মটরের একটা জায়গায় পড়ে থাকতাম। বাড়ির কথা মনে পড়তো কিন্তু কি নিয়ে বাড়ি যাবো। খেয়ে না খেয়ে পড়ে থাকি। এরপর খুঁজতে থাকলাম কোন কাজটি করলে আমার সংসার বাঁচবে। পকেটে টাকাও নেই। অনেক ধার-দেনা হয়ে গেছে। কিন্তু আমাকে কিছু করতে হবে। এই চিন্তা শুধু মাথায় আসতো। ঘুরতে ঘুরতে একদিন ডাব বিক্রির চিন্তা করলাম। কয়দিন দেখলাম। তারপর নিজে রাস্তায় বসে গেলাম।

এই ব্যবসায় লাভ কেমন হয়? এই প্রশ্নে তিনি বললেন, ডাব বেচা যখন শুরু করলাম বেশ ভালই লাভ হচ্ছিল। কিন্তু দৈনিক ৫০০ টাকা চাঁদা দেওয়া লাগতো, এছাড়া ডাবের খোসা পরিষ্কার, ঝাড়ুদার, পুলিশ সব মিলিয়ে লাভের একটা অংশ চলে যেত। এরপরও হাল ছাড়িনি ব‍্যবসা ধরে রেখেছি। মাসে ৩০-৪০ হাজারও আয় হয়। কোনো মাসে কম বা আরও বেশিও আসে। তবে এখন চাঁদা বা এসব দেওয়া লাগে না। কিছু খরচ আছে যেমন ডাবের খোসা পরিষ্কারের জন্য প্রতিদিন ৬০ টাকা দেই, ঝাড়ুর জন্য ১০ টাকা দেই, পুলিশ সব সময় নেয় না। মাঝে মাঝে দেই।  

পরিবারে আর কে কে আছে জানতে চাইলে আশরাফ আলী বলেন, আমার ছেলে মেয়ে পাঁচ জন। তাদের মধ্যে একজন বিএ পড়ে, একজন ইন্টার পড়ে। আমি চাই তারা মানুষের মতো মানুষ হোক, শিক্ষিত হোক। আমিতো পড়ালেখা করিনি। আমার সন্তানরা উচ্চ শিক্ষিত হবে এটা আশা রাখি।

আয়ের টাকা দিয়ে কি করেছেন? আশরাফ আলী বললেন, ডাব বিক্রি করে যা আয় হয়েছে সেটা দিয়ে সংসার চালিয়েছি। সন্তানদের পড়া লেখার খরচ দিয়ে এলাকায় ৮ শতাংশ জমির ওপর একটা দুইতলা বাড়ি করেছি। এছাড়া কিছু কৃষি জমি আছে সেগুলি চাষ করি। মাঝে মাঝে বাড়ি যাই। সবকিছু ঠিক করে দিয়ে আবার ঢাকায় চলে আসি। আমি অনেক সুখে আছি। আল্লাহ আমাকে অনেক ভাল রেখেছে। আমার ছেলে মেয়েরা মানুষের মতো মানুষ হলে আমার আর কোনো চাওয়া পাওয়া নেই।

সম্পাদনা: এম আলমগীর  

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status