ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বাবা কনডেম সেলে আমি ভালো নেই
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Friday, 2 October, 2020, 3:12 PM

বাবা কনডেম সেলে আমি ভালো নেই

বাবা কনডেম সেলে আমি ভালো নেই

রিফাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বর্তমানে বগুড়া কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন। সেখান থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফোন করেন বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরকে।

এ সময় মিন্নি তার বাবাকে বলেন, ‘বাবা আমাকে কারাগারের নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে। কনডেম সেলে আমি ভালো নেই। আমি নির্দোষ। আমি এই খুনের সঙ্গে জড়িত নই। সত্যের জয় একদিন হবেই। তোমরা ধৈর্য ধর। দ্রুত আপিল করে আমাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করো। কারাগারের একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।’

পাঁচ মিনিটের এই কথোপকথনের অধিকাংশ সময়জুড়ে মিন্নি তার বাবাকে দ্রুত আপিল করার কথা বলেন।

কারাগারে একাকী একটি কনডেম সেলে মিন্নি রয়েছেন। বরগুনা কারাগারে মিন্নি ছাড়া আর কোনও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নেই।

কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, কনডেম সেলে মিন্নি একা। ওই সেলের পাহারায় রয়েছেন একজন নারী কারারক্ষী। কারাবিধি অনুযায়ী ফাঁসির আসামি হিসেবে মিন্নিকে কয়েদির পোশাক দেওয়া হয়েছে। সাদা রঙের শাড়ির ওপর নীল স্ট্রাইপ রয়েছে। এটা সব নারী ফাঁসির আসামিদের দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী দুটি শাড়ি তাকে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে দেয়া হয়েছে একটি বালিশ ও কম্বল। এর আগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বালিশ দেয়া হতো না। কারাবিধি অনুযায়ী তিনটি কম্বল দেওয়া হতো। তার মধ্যে একটি কম্বলকে বালিশ হিসেবে ব্যবহার করতেন আসামিরা।

এদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেছন, আমার মেয়ে জেলখানায় ভালো নেই। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। ষড়যন্ত্র করে আমার মেয়েকে ফাঁসর দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আমি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

মিন্নির বাবা আরও বলেন, আমার মেয়ে তার স্বামী রিফাত শরীফকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। সে একাই রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসব ঘটনা দেশের ভিডিওতে দেখেছে। তবু এই মামলায় আমার মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে।

জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, মিন্নিসহ ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের সকালে ডাল, সবজি, রুটি; দুপরে ভাত মাছ দেয়া হয়। আবার কখনও ভাত ও মাংস দেওয়া হয়। দুপরে একই ধরনের খাবার থাকে।

গেলো বুধবার রিফাত হত্যা মামলার রায়ে তার স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে মিন্নিসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে বরগুনা জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর ছয় আসামিকে বিকেল তিনটার দিকে কারাগারে নেয়া হয়। রায় শোনার পর থেকেই মিন্নি বিষণ্ন হয়ে পড়েন। সেই বিষণ্নতা কনডেম সেলে আরও বেড়েছে। রাতে খাবারদাবার দেওয়া হলে সামান্য খেয়েছেন।

গেল বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে নৃশংসভাবে ধারালো দা দিয়ে কোপানো হয়। তারপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মারা যান।

সম্পাদনা: এম আলমগীর

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status