ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শুধু অভিনয় নিয়ে আলোচনায় আসা তারকার সংখ্যা খুব কম। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ অপি করিম। কখনই তথাকথিত তারকাদের মতো সাজ-পোশাকনির্ভর অভিনেত্রী ছিলেন না। সবসময় চেষ্টা করেছেন যে চরিত্রটি করছেন সেই চরিত্র হয়েই পর্দায় আসতে। তাকে যারা বাস্তব জীবনে চেনেন তারাও জানেন, কতটা সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত অপি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি ভীষণ সৎ। সম্পর্ক, অনুভূতি, কাজ নির্বাচন ও তা বাস্তবায়ন, অন্যের কাজ মূল্যায়ন সবকিছুতেই তার সততার ছাপ স্পষ্ট। এমনকি চুপ থাকা স্বভাবের অপি যখন কোনো কিছু নিয়ে কথা বলেন তা সৎ থেকেই বলেন। তাই তো অপির ভক্ত কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমায় আবদ্ধ নেই। নয় থেকে নব্বই সবাই অপির কাজের ভক্ত। অভিনয় গভীরতার জন্য বরাবরই আলোচিত এ তারকা।
কখনই শুধু মিডিয়াকে শতভাগ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেননি তিনি। প্রথমদিকে অভিনয়, নাচ ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগ দিয়েছেন। এরপর তো অভিনয় ছেড়ে দেশের বাইরে চলে যান উচ্চতর ডিগ্রির জন্য। এখনো তার প্রধান পেশা শিক্ষকতা ও স্থপতি। তাই সবসাময়িক অন্য তারকার চেয়ে তার কাজের সংখ্যা কম। কিন্তু যখনই নতুন কিছু পান, তা মনপ্রাণ উজাড় করে দিয়েই করেন। ‘আজ রবিবার’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘সংশপ্তক’, ‘এবং বিয়ে’ এসব ধারাবাহিকের যুগ শেষে নতুন ভাষার ধারাবাহিক ‘একান্নবর্তী’, ‘চড়ুইভাতি’তে তিনি অনবদ্য। আবার ফারুকী যে ‘ব্যাচেলর’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রের নতুন একটি ভাষার সঙ্গে দর্শককে পরিচয় করান, সেই সিনেমার প্রধান একটি চরিত্র অপিরও ছিল। আরেকবার নতুন যাত্রায় অপি কা-ারি। এবার কোরবানির ঈদে সবচেয়ে প্রশংসিত টেলিছবি আশফাক নিপুণের ‘ভিকটিম’। শোবিজের অনেক তারকা, সমালোচক এমনকি ভালো দর্শকরাও বলছেন এটি টেলিভিশন ফিকশনের ক্ষেত্রে নতুন ভাষা দিয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর রসায়ন এভাবে আগে ধরা পড়েনি। এ টেলিছবিতে অপি এখনকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট নারীর প্রতিচ্ছবি। যিনি কাজের ক্ষেত্রে সফল, সংসারেও সফল। কিন্তু এ দেশের নারীরা অনেক অনুভূতিকে প্রকাশের স্বাধীনতা আজও রাখে না। তাই পরিণতিতে অপি সেই সংসারি নারীরই প্রতিনিধিত্ব করেন।
‘ভিকটিম’-এর নির্মাতা আশফাক নিপুণের সঙ্গে অপির কাজের রসায়ন এর আগেও প্রশংসিত হয়েছে। তিনি যখন থেকে অভিনয়ে একদমই অনিয়মিত, তারপরও যে কাজগুলো করেছেন তার সিংহভাগই নিপুণের পরিচালনায়। অপিকে নিপুণ মূল্যায়ন করলেন এভাবে, ‘আমার সবচেয়ে পছন্দের অভিনেত্রী অপি। তার কাজের ভক্ত তখন থেকে যখন জানতামও না এক দিন শোবিজে কাজ করব। ২০১৬ সালে ‘অবাক ভালোবাসায়’ নাটকের মাধ্যমে আমাদের একসঙ্গে কাজের যাত্রা শুরু। সেই কাজটি শুরুর দিন আমি খুব ভয়ে ছিলাম। কারণ আমি শুনেছিলাম তিনি কাজের ব্যাপারে ভীষণ খুঁতখুঁতে। তার ওপর আমি আবার আগে থেকে শিল্পীদের স্ক্রিপ্ট দিতে পারি না। স্পটে বসেই দৃশ্য লিখি, মহড়া করি, তারপর শ্যুটিং। কেন জানি আমার কাজের ধারা তার ভালোলাগে। তাই প্রথম নাটকেই দু-তিনটি দৃশ্যের পর তিনি আমার ওপর আস্থা পেয়ে যান। আজ পর্যন্ত এমন হয়নি যে আমি তাকে কোনো কাজের প্রস্তাব দিয়েছি আর তিনি করেননি। আসলে আমিই চাই এমন গল্প তার কাছে নিয়ে যেতে যাতে তিনি না করতে পারেন। আর যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তার আগে খুব নার্ভাস থাকেন, সময় নেন চরিত্রে ঢুকতে। কিন্তু ক্যামেরা অন হলেই যেন ম্যাজিক সৃষ্টি করেন। আমি চাই, আমাদের এই ক্রিয়েটিভ পার্টনারশিপ অনেক দিন চলুক।’
অপি করিম বলছিলেন, ‘আমি কেন কম কাজ করি তা সবাই জানেন। অন্য পেশা আছে, তাছাড়া মন থেকে সায় দিলেই সেই গল্পে কাজ করি। আর গল্প বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটা পরিচালক আশফাক নিপুণ বলেই দিয়েছেন। “ভিকটিম” নিয়ে যেহেতু কথা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে বলতে চাই কাজটি যদি ভালো হয়, সবাই পছন্দ করেন তার পুরো কৃতিত্বই পরিচালকের।’