প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ক্ষতিকর ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে: ভারত সরকার
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 21 June, 2020, 8:35 AM
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ক্ষতিকর ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে: ভারত সরকার
লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব দলের নেতাদের ডেকে গতকাল শুক্রবার বৈঠক করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার ‘ক্ষতিকারক ব্যাখ্যা’ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে অভিযোগ করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভি বলছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার জবাব দিতেই এই বিবৃতি। তাতে বলা হয়েছে, লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টার ক্ষেত্রে ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে তা প্রতিহত করবে, এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ভারতের ভূখণ্ডে আকস্মিক হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করে কেউ প্রবেশ করেনি, সেখানে কেউ অবস্থানও নেয়নি, আমাদের কোনো পোস্টও হাতছাড়া হয়নি।’
এরপর শনিবার সকালে এক টুইট বার্তায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘চীনা আগ্রাসনের কাছে ভারতীয় ভূখন্ড হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভূখণ্ড যদি চীনের হয় তাহলে: (১) আমাদের সেনাদের কেন হত্যা করা হলো? (২) তাদের কোথায় হত্যা করা হলো?’
মোদির বক্তব্য প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, মূলত তিনি যে বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন সেটি হলো, এলএসি লঙ্ঘনের ঘটনা সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে অতীতে যতটা অবহেলা দেখা গেছে, তার তুলনায় ভারতীয় বাহিনীগুলো সন্দেহাতীতভাবে আরও কঠোরভাবে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মোদি বলেছিলেন, ‘যারা আমাদের ভূমিতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল, দেশের সাহসী সন্তানেরা তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন।’ বৈঠকের পর বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ সরকার প্রকৃত পরিস্থিতির বর্ণনা দেয়নি। সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘সরকার এতদিন সবাইকে অন্ধকারে রেখেছে।
এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে এই পরিস্থিতিতে যখন সীমান্ত রক্ষা করছেন সাহসী সেনারা, তখন দেশের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক হচ্ছে, যার কারণে সেনাদের মনোবল কমে যেতে পারে। সর্বদলীয় বৈঠকের মূল মনোভাব ছিল জাতীয় সংকটের সময় সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন।’
গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের হাতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। এছাড়া আহত ৭৬ জনের এখন চিকৎসা চলছে। চীনাদের হাতে আটক ১০ জওয়ান গতকাল ছাড়া পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি শুক্রবারের বৈঠকে ভারতের ভূখন্ডে কেউ প্রবেশ করেনি বলে দাবি করেন।