|
সরকার সিদ্ধান্ত দিলেই বসুন্ধরার করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() সরকার সিদ্ধান্ত দিলেই বসুন্ধরার করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন জানা গেছে, ইতোমধ্যে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরিচালক, উপ-পরিচালক, নার্সসহ অন্যান্যদের নিয়োগ দেওয়ার হয়েছে। তারা অস্থায়ী হাসপাতালের পাশে একটি ভবনে দাপ্তরিক কাজ করছেন। কিন্তু সেখানে অগ্রগতি কম বলে জানা গেছে। সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত হাসপাতালের পরিচালক ডা. এহসানুল হক বলেন, কিছু কাজ চলছে। সরকার তারিখ নির্ধারণ করে দিলে সে অনুযায়ী উদ্বোধন হবে। যদিও নির্মাণ প্রক্রিয়ার দেখভাল করা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান সরোয়ার গত ২৮ এপ্রিল বলেছিলেন, হাসপাতাল তৈরির ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। আজ বুধবার আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিন হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য দিতে গিয়ে জানান, হাসপাতালটি পুরোপুরি প্রস্তুত। সরকার চাইলে যেকোনো সময় এটি ব্যবহার করতে পারবে। আইসিইউ রোগীদের জন্য অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের কাজ বাকি ছিল সেটি প্রায় শেষ। হাসপাতালের কোন কাজটি বাকি রয়েছে সেটি সুস্পষ্টভাবে জানাতে পারবেন কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. এহসানুল হক বলেন, একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য নানান বিষয় থাকে। সবগুলো এখনো শেষ হয়নি। এটি প্রক্রিয়াধীন, পরে জানাতে পারব। সরেজমিনে হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অস্থায়ীভাবে তৈরি হাসপাতালের সব ধরনের নির্মাণ কাজ শেষ। রোগীদের বেডসহ আনুসাঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বসানো, এসির কাজ শেষ, বাথরুম প্রস্তুত, চিকিৎসকদের জন্য রুমও প্রস্তুত। দাপ্তরিক কাজ চালানোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও আলাদা জায়গা দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার আইসিসিবিতে নির্মিত করোনা হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আজই (৪ মে) চালু হওয়ার কথা ছিল। কেন হচ্ছে না এটা আমি সঠিক বলতে পারবো না। এটা সরকারের ওপর নির্ভর করছে। হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব আমাদের না। এটা সরকার নিয়েছে। আমাদের কাজ ছিল ফ্যাসিলিটিজ (নির্মাণ সুবিধা) দেওয়া, আমরা দিয়ে দিয়েছি। এখন সরকার করবে পুরোটা। জানা গেছে, হাসপাতালে মোট আইসোলেশন বেড হবে ২ হাজার ১৩টি। ছয় ক্লাস্টারে ১ হাজার ৪৮৮টি বেড বসবে। এছাড়া তিনটি কনভেনশন হলে থাকবে আরো ৫২৫টি বেড। এর বাইরে ৪ নম্বর হলে হবে ৭১ বেডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। এছাড়াও দেড় হাজার রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া যাবে এমন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে ৫ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে ২ হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো ট্রেড সেন্টারে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ ১২ এপ্রিল থেকে বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
