চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হওয়া পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বে ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখেরও অধিক মানুষ।
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে শুধু চীনেই মারা গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ৮১ হাজার।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রাণী থেকে মানবদেহে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। অতীতে অনেক বার পশুপ্রেমীদের অনুরোধ করা সত্ত্বেও এসব প্রাণীর মাংস খাওয়াকে নিষিদ্ধ করেনি চীনা সরকার। তবে এবার দেশটিতে কুকুর, বিড়ালের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চীনের শেনজেন শহরে ১ মে থেকে কার্যকর হবে নতুন আইন। এই আইনে কুকুর, বিড়ালের মাংস ছাড়াও সাপ, ব্যাঙ, কচ্ছপ খাওয়ার ক্ষেত্রেও আনা হচ্ছে নানা বিধিনিষেধ।
শুধু তাই নয়, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী শহরের খাদ্যের জোগান মেটাতে শূকর, গরু, ভেড়া, গাধা, খরগোশ, মুরগি, হাঁস, এবং কবুতর খাওয়ায় ছাড় দেয়া হয়েছে। তবে চীনাদের জলজ প্রাণী খাওয়াতেও কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।
হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের (এইচএসআই) তথ্যমতে, মাংসের জন্য এশিয়াজুড়ে বছরে ত্রিশ মিলিয়ন কুকুর মারা যায়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে করোনাভাইরাসের প্রথম উপস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। তিন মাসেই এই ভাইরাস ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দূত হিসেবে পৌঁছে গেছে বিশ্বের সাত মহাদেশে। চীনে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এই ভাইরাসের তাণ্ডব চলছে সর্বত্রই। ভাইরাসের প্রাণকেন্দ্র উহান এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেও এই মুহূর্তে করোনার নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অন্তত পাঁচটি দেশ।