ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১ মে ২০২৬ ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
করোনা রোগী বাঁচাতে পারে চবি শিক্ষকের ‘এন্টিবডি থেরাপি’!
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 1 April, 2020, 8:51 PM

করোনা রোগী বাঁচাতে পারে চবি শিক্ষকের ‘এন্টিবডি থেরাপি’!

করোনা রোগী বাঁচাতে পারে চবি শিক্ষকের ‘এন্টিবডি থেরাপি’!

করোনায় স্থবির এখন বিশ্ব। এ ভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কার না হওয়ায় মরছে মানুষ। তবে সচেতন হলে এর কবল থেকে বেঁচে থাকাও সম্ভব। এর বিকল্প হিসেবে একটি আইডিয়া দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিভাগের একজন শিক্ষক। তিনি হলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া। তার আইডয়া অনুযায়ী কাজ করা হলে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচানো যাবে রোগী। 

তার আইডিয়াটি হলো, পরোক্ষ ‘এন্টিবডি থেরাপি’! তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। যাতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এর আগে এই শিক্ষক পিসিআর মেশিন ব্যাবহার করে তিন ঘন্টায় ৯৬ জন ব্যাক্তির করোনা ভাইরাস পরীক্ষার বিষয়েও লিখেন।

এরপর থেকে নজরে আসে সবার। অনেকেই ইতিবাচক-নেতিবাচক মন্তব্যও করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাস ঘন ঘন জিন মিউটেশন করে নিজের চরিত্র বদলে ফেলে। তাই একে রুখতে সুনির্দিষ্ট কোনও ওষুধ ব্যবহার করা মুশকিল। আর সুস্থ ব্যাক্তির ব্লাড প্লাজমা কাজে আসার বিষয়টিও সন্দিহান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে অধ্যাপক ড. রবিউল হোসাইন ভূঁইয়া লিখেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচানোর জন্য ১৮৯০ সালের এই পদ্ধতি আশির্বাদ হয়ে কাজ করতে পারে। এটাকে পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি বলা হয়। পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি নামকরণ হয়েছে কারণ একজন ব্যক্তির শরীরে উৎপন্ন এন্টিবডি অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়। তাহলো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত থেকে নিরাময় হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড-প্লাজমা বা ব্লাড-সিরাম নিয়ে (ভাইরাস ও অন্যান্য ইনফেক্সাস এজেন্ট স্কিনিংয়ের পর) আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করালে আক্রান্ত ব্যক্তি খুব তাড়াতাড়ি নিরাময় হয়ে উঠতে পারে। কারণ পূর্বে নিরাময় হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড প্লাজমা অথবা সিরামে এন্টি-কবিড-১৯ এন্টিবডি উৎপন্ন হয়ে আছে, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের প্রবেশ করালে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাময়ে দারুণ ভূমিকা রাখবে।

এ সম্পর্কে তিনি কয়েকটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন, এ ধরনের ব্লাড-প্লাজমা বা ব্লাড-সিরাম এপ্রোচের মাধ্যমে ১৯১৮ সালে এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মহামারিতে ১৭০০ আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া গিয়েছে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তখন বর্তমান সময়ের তুলনায় জ্ঞানের ব্যাপ্তি কম থাকায় কোন উপসংহারে আসা যায়নি।

২০০২-০৩ সালে সার্চ  আউটব্রেকের সময় আক্রান্ত ৮০ ব্যক্তির উপর একই ভাবে আক্রান্ত থেকে নিরাময় হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড-সিরাম প্রয়োগ করে হংকং এ। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত নিরাময় হয়ে উঠে। তাছাড়া এভোলা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। রোগীর জীবন বাঁচাতে জরুরি চিকিৎসা হিসেবে পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি প্রয়োগ করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা কতটুকু কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের বড় বড় গবেষণাপত্র গুলোতে বিষয়টি নিয়ে লিখা প্রকাশ হয়েছে। করোনাভাইরাসের তাড়াতাড়ি জিন পরিবর্তের সমস্যার কারণে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও অঞ্চলভিত্তিক প্রয়োগ করে কার্যকারিতা পাওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। আর যেহেতু এর কোন ওষুধ নেই তাই রোগী একদম চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সুফল মিলতে পারে। আর এই কাজ করা খুবই সহজ। চিকিৎসকরা এটি অনুসরণ করতে পারেন।
 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status