প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবা পড়েছে বাংলাদেশেও। রোববার দেশে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
এ খবর প্রকাশের পর পর দেশব্যাপী জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাঁচি, কাশি হলেই ছুটে যাচ্ছেন টেস্ট করাতে।
এদিকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ সনদ ছাড়া বিদেশে যেতে পারছেন না প্রবাসীরা। তাই করোনা টেস্ট করতে আইইডিসিআরে যাচ্ছেন তারা।
সোমবার আইইডিসিআরের সামনে আগত প্রবাসীদের ভিড় জমাতে দেখা গেল।
এসব প্রবাসীর বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত।
সাংবাদিকদের তারা বলছেন, ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। কিন্তু এখন করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ সনদ না থাকায় প্রবাসে যেতে পারছেন না। ইতিমধ্যে অনেকের ছুটিও শেষ।
এ বিষয়ে প্রবাসী আবু তাহের এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে চাকরি করি। মাসখানেক আগে ছুটিতে এসেছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ সনদ ছাড়া এখন যেতে পারছি না। ওই দেশ থেকে বলা হয়েছে, সনদ না নিয়ে এলে বিমানবন্দর থেকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে। তাই করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ সনদ ছাড়া বিমানে ওঠা বোকামিই হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, এমন জরুরি প্রয়োজনেও তেমন কোনো সাহায্য করছে না আইইডিসিআর। নিরাপত্তা রক্ষীরা আমাদের ভবনের ভেতরেই ঢুকতে দিচ্ছে না। কবে নাগাদ সনদ পাব বা সনদ পেতে কী করণীয় সব কিছুই অন্ধকার লাগছে। এখানে আমাদের অনেকেরই অবস্থা আমার মতোই।’
আরেক প্রবাসী বলেন, ‘বিরাট সমস্যায় পড়ে গেছি আমরা। আমাদের শরীরে করোনাভাইরাস নেই, সেটি প্রমাণ করতেই ঘাম ঝরছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে আগ বাড়িয়ে সাহায্য করা উচিত। ওই সনদ না নিয়ে গেলে সৌদি আরবে আমাদের ঢুকতে দেয়া হবে না। আর কয়েক দিন পর আমার ফ্লাইট। এর মধ্যে সনদ জোগাড় না করতে পারলে ভাইরাসে নয়, এমনিতেই মাঠে মারা পড়ব।’
আইইডিসিআর কী বলছে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখানে এসে আমরা তেমন কোনো সাহায্যই পাচ্ছি না। শুধু বলে অপেক্ষা করার জন্য তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এই ব্যবস্থা কবে নেবে সেটি বলেননি। আমরা আশঙ্কায় আছি।’
এ বিষয়ে আইইডিসিআরের সূত্র বলছে, প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সবাইকে এ বিষয়ে হটলাইনে ফোন দেয়ার জন্য তারা বারবার অনুরোধ জানিয়েছেন।