সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে অদ্ভুদ আকৃতির এক শিশুর জন্ম হয়েছে। শিশুটির মাথায় খুলি নেই, চোখ ও জিহ্বা বাইরে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে গোপরেখী ড্যাফোডিল ক্লিনিকে শিশুটির জন্ম হয়েছে। তার নানা বাড়ি এনায়েতপুর কাপড়ের হাট আড়ত সংলগ্ন এক খুপড়ি ঘরে শিশুটিকে এক নজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করছে।
দৌলতপুর গ্রামের ভ্যান শ্রমিক রানা আহম্মেদ ও শাহানাজ দম্পতির বিয়ের দেড় বছর পর জন্ম নেয়া ওই সন্তানের নাম রাখা হয়েছে ইয়াছিন হোসেন। এটি ওই দম্পতির প্রথম সন্তান।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র রানা-শাহনাজ দম্পতি বিয়ের পর থেকেই সন্তানের জন্য চেষ্টা করে আসছিলেন। পরে গর্ভবতী হন শাহনাজ। অনাগত শিশুটিকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ছিল ওই পরিবারের। ঘরে নতুন অতিথি আসবে, বাড়িতে বইবে আনন্দের বন্যা।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে বহুল প্রত্যাশিত শিশুটির জন্ম হয়। কিন্তু অদ্ভুদ আকৃতির ওই শিশু জন্ম নেয়ায় পরিবারে আনন্দের বদলে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তবে মাথা, চোখ ও জিহ্বা ছাড়া অন্যান্য অংশ প্রত্যঙ্গগুলি স্বাভাবিক রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশুটি বেঁচে আছে।
প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন জানান, মাথার খুলি নেই, চোখ ও জিহ্বা বাহিরে বের হওয়া এমন আকৃত্রির শিশু আগে কোনওদিন দেখিনি। কি কারনে এমন শিশুর জন্ম হল আল্লাহ ভাল জানেন। তবে হতদরিদ্র বাবা মা শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
এবিষয়ে শিশুটির বাবা ভ্যান শ্রমিক রানা আহম্মেদ সাংবাদিকদের কাছে কিছু বলতে রাজি হননি। কান্না জড়িত কন্ঠে কেবল বলেন, ‘আল্লাহ তুমি কি করলা, এখন কি করবো, আমার এখন উপায় কি বলে নির্বাক দৃষ্টিতে শিশুটির দিকে চেয়ে আছে।
এবিষয়ে ড্যাফোডিল ক্লিনিকের চেয়ারম্যান ডা. লুৎফর রহমান জানান, সাধারণত বিভিন্ন ঔষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কিংবা জন্মগত ক্রটিগত কারণে এসব বিকৃত শিশুর জন্ম হতে পারে। এছাড়া পারিবারে আগে এধরনের শিশু জন্মর রেকর্ড থাকলেও কখনও কখনও অদ্ভুত আকৃতির শিশুর জন্ম হতে পারে।