জান্নাতকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখালেন প্রধানমন্ত্রী
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 16 November, 2019, 8:23 PM
জান্নাতকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখালেন প্রধানমন্ত্রী
ট্রাক ডাইভার মাসুদের ৯ বছরের ফুটফুটে মেয়ে জান্নাত। আর দশটা ছেলেমেয়ের মতোই নিয়মিত স্কুলে যায় সে, পাড়ার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নিয়মকরে খেলাধুলাও করে। সারাক্ষণই থাকে দৌড়ের উপরে।
চোখে মুখে নির্মলতার যে ছাপ তা যেন সবার নজর কাড়ে। কিন্তু এই নির্মলতা যেন এক নিমিষেই নির্মমতায় রূপ নিয়ে নেয়। উড়ন্ত, উচ্ছ্বাসিত এই জান্নাতের হঠাত একদিন খুব জ্বর হয়। মা নুরুন নাহার তেমনভাবে পাত্তা দেয়নি। জ্বর হয়েছে, তা আর অমন কি ব্যাপার।
কিন্তু এই জ্বর থেকে জান্নাতের শুরু হলো পিঠে ব্যথা। দুদিন যেতে না যেতে জান্নাত একদম বিছানাগত হয়ে গেলো। যেনো আর উঠতেই পারছেনা। ট্রাক ডাইভার বাবা আর মা নুরুন নাহার বুঝলো বিষয়টা এখন আর সহজ না, একটু জটিল বটে। মেয়েকে নিয়ে তাঁরা ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার একটি এক্সরে করতে দেয়। এক্সরে রেজাল্টে দেখা যায় জান্নাতের হাড় ক্ষয় রোগ আছে, আর মেরুদণ্ড বেশ বাকা হয়ে গিয়েছে।
চিন্তার বিষয় হলো, এ ধরণের রোগ সাধারণত ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সির জন্য হয়। যেসব বাচ্চারা ছোট থেকে এসির মধ্যে থাকে, কিংবা ঘর, গাড়ি, স্কুল এরমধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, মোটাদাগে যারা রৌদ্রের সংস্পর্শে কম যায়, খেলাধুলা করেনা, তাদের এ ধরণের রোগ হয়। সে অনুযায়ী জান্নাত খুব দাপিয়ে বেড়ানো টাইপ মেয়ে। তাও তাকে এই রোগ সৃষ্টিকর্তা দিয়েছে। উপায় তো নেই।
ডাক্তার বললেন, এর চিকিৎসা সম্ভব। এই শুনে বাবা-মায়ের বুকে খানিকটা আশার আলো ফুটলো। তবে ভাবনার বিষয় রয়ে গেলো এই যে, চিকিৎসার জন্য এতো টাকা তাঁরা কোথায় পাবে। ডাক্তার জানিয়েছেন প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হবে সব মিলিয়ে।
টাকার অঙ্ক চিন্তা করে দিন আনে দিন খাওয়া ট্রাক ডাইভার বাবা দিশেহারা হয়ে পড়লেন। মনে মনে ভেবেও নিলেন কপালে যা থাকে তাই হবে। ঠিক তখন জান্নাতের মা নতুন করে আশার আলো জ্বালালেন। বলে নেয়া ভালো, জান্নাতের মা একজন মহিলা আওয়ামীলীগের কর্মী। সেই সুবাধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের মেয়ের জন্য সাহায্য চেয়ে একটি আবেদন করেন। আর প্রধানমন্ত্রীও তাকে ফেরালেন না। তার আবেদন মঞ্জুর করে অনুদান পাঠালেন গরীব বাবা-মায়ের বুকের ধন জান্নাতের জন্য।
জান্নাত এখন চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকা মেডিকেলের ২০৪ নাম্বার ওয়ার্ডের ২৯ নাম্বার বেডে।