নারী অফিস অফিস সহকারীর সঙ্গে জামালপুরের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সম্প্রতি আলোড়ন তৈরী করে।
ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার বরিশালের এক আওয়ামী লীগ নেতার একটি আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে।
৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম ভুলুকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহুর্তে দেখা যায়। যা রুমের এক কোণা থেকে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।
তবে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি সাবেক স্ত্রী’র বলে জানিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান ভুলু। গত তিন বছর পূর্বে তালাক হওয়া সাবেক স্ত্রী’র পারিবারিক ওই ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই আওয়ামী লীগ নেতা।
কয়েকটি সূত্র বলছে, খোরশেদ আলম ২০১৬ সালে এক নারীর সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ওই নারীকে পাতানো বিয়ের মাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। সে সময় ওই নারীকে খুলনায় রাখেন ভুলু।
পরে ওই নারীর চাপে তিনি তাকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নে নিয়ে আসেন। কিন্তু ওই নারী যখন বুঝতে পারেন যে খোরশেদ আলম তার সাথে ‘ছলনা’ করছেন তখন তিনি তাকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। এতে কাজ না হওয়ায় ওই নারী মোবাইল ফোনে তাদের অন্তরঙ্গ মূহুর্তের একটি গোপন ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিওর সাহায্যে খোরশেদ আলম ভুলুকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকায় ঘটনাটি মিটমাট করেন ওই নারী।
ভাইস চেয়ারম্যান ভুলু বলেন, রাজনীতি করি এমপি মহোদয়ের সঙ্গে। তার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করি, এতে অনেকেই ঈর্ষান্বিত হোন। আমার দলেরই কিছু প্রতিপক্ষ আছে যারা গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে ভিডিওটি ছড়াচ্ছে। শুধু আমাকেই নয়, এমপি মহোদয়কে নিয়েও ছড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাচক্রে খালেদা নামের ওই নারীকে বিয়ে করেছিলাম। পরে জানতে পারি মেয়েটির চরিত্র ভালো না। তাই তাকে তালাক দেয়ার কথা বলি। এ কারনে সেই সময় কেউ হয়তো গোপনে আমাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ওই ভিডিওটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে। পরে সেই সময় ওই ভিডিওটি প্রথমবার কোন একটি পক্ষ প্রকাশ করে। তবে স্থানীয় মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সকলের উপস্থিতিতে খোলা তালাকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তারপর সে তারমতো চলে গেছে, আমি আমার মতো আছি।’
‘এখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি আমি। যারা ৩ বছর আগের আমার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিওটি এখন ছড়াচ্ছে, তাদের নামে আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।’