ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৮ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
পুলিশে আস্থা নেই মিন্নির বাবার, পিবিআইকে তদন্তের দাবি
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 25 July, 2019, 8:20 AM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 25 July, 2019, 8:33 AM

পুলিশে আস্থা নেই মিন্নির বাবার, পিবিআইকে তদন্তের দাবি

পুলিশে আস্থা নেই মিন্নির বাবার, পিবিআইকে তদন্তের দাবি

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে নতুন এক তথ্য দিলেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

পুলিশের প্রতি আগেও অনাস্থা জানিয়েছিলেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। বুধবার ২৫ জুলাই, দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করে অনাস্থা জানিয়ে তিনি রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বরগুনার বহুল আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী এবং তাঁর স্ত্রী মিন্নিকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন মোজাম্মেল। তিনি বলেছেন, পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করতে তাঁর মেয়েকে ফাঁসাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি, ছোট বোন মেঘলা, ভাই কাফি, নানা মাহতাব হোসেন মোল্লা, আরেক নানা পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাকির সিকদারও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, পুলিশের তদন্তে আস্থা রাখতে পারছেন না তিনি। পুলিশ শুরু থেকে একটি প্রভাবশালী মহলকে বাঁচাতে তাঁর মেয়েকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। বরগুনা পুলিশের হাতে তদন্তের দায়িত্ব থাকলে তাঁর মেয়েকে ফাঁসিয়ে দিয়ে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করা হবে। সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত পিবিআইতে হস্তান্তরের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) প্রতি অনুরোধ জানান।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ প্রভাশালীদের প্ররোচনায় পুত্রবধূর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বলে দাবি করেন মোজাম্মেল। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রিফাত শরীফ হত্যার পর তাঁর বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় যখন হত্যা মামলা দায়ের করেন তখন তাঁর পুত্রবধূ মিন্নিকে ১ নম্বর সাক্ষী করেন। কারণ তখন পুত্রবধূর প্রতি তাঁর সম্পূর্ণ আস্থা ছিল। যখনই প্রভাবশালী মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, যখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিন্নির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার শুরু হয়েছে, যখনই নয়ন বন্ডের মা প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা তথ্য দিতে শুরু করেন, যখনই মূল ভিডিও আড়াল করে আর একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয় তখনই মিন্নিকে সাক্ষী থেকে আসামি করা হলো।’

প্রসঙ্গত, দুলাল শরীফ দ্বিতীয় দফা সংবাদ সম্মেলন করে মিন্নির মা ও বাবার গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।

প্রভাবশালী মহল কারা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘দুটি চক্রের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যার একটি পক্ষ নয়ন বন্ড। এই নয়ন বন্ডকে শেল্টার দিত এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ। এই সুনাম দেবনাথই মিন্নিকে ফাঁসানোর জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্ন চক্রান্ত করে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী জড়িত বলে দাবি করেন মোজাম্মেল। তিনি বলেন, ঘটনার আগে তাঁর মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শামসুন্নাহার খুকির বাগিবতণ্ডা হয়েছিল। এ কারণে রিফাত ও রিশান যারা খুকিকে মা বলে ডাকে, তারা প্রতিশোধ নিতে হত্যাকাণ্ডের অগ্রভাগে ছিল বলে তাঁর ধারণা। মোজাম্মেল মনে করেন, পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে এ বিষয়ে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে ২১ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মিন্নির বাবা বলেন, তাঁর মেয়ে অসুস্থ। কিছুদিন আগেও তাকে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। পুলিশের নির্যাতনে তাঁর মেয়ে এখন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। তার চিকিৎসার বিশেষ প্রয়োজন। বিভিন্ন মহলের হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার-পরিজন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। মোজাম্মেল বলেন, তাঁর সন্তানদের স্কুলে যাওয়া-আসা বন্ধ হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সারা দেশে ব্যাপক আলোচিত হয় ঘটনাটি। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রী মিন্নির সামনেই রিফাতকে কোপানো হচ্ছে। মিন্নি হামলাকারীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। ওই দিন রাতে রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। মামলার ১ নম্বর সাক্ষী করা হয় মিন্নিকে। তবে গত ১৩ জুলাই রিফাতের বাবা সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত বলে অভিযোগ করেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরদিন একই দাবিতে মানববন্ধন করা হয়, যেখানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ। ১৬ জুলাই মিন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁর বাবা দাবি করেছেন, পুলিশ নির্যাতন করে তাঁর মেয়েকে তাদের শিখিয়ে দেওয়া অনুযায়ী আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে।  

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status