ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
চিকিৎসাসেবা নিয়ে চলছে লুটপাটের ব্যবসা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 9 June, 2019, 11:53 PM

চিকিৎসাসেবা নিয়ে চলছে লুটপাটের ব্যবসা

চিকিৎসাসেবা নিয়ে চলছে লুটপাটের ব্যবসা

সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলার ২৪ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। হাওরাঞ্চলের লোকজনের চিকিৎসা সেবার জন্য উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে সবাই ছুটে আসেন জেলা সদরে। কিন্তু এখানে এসেও সঠিক ভাবে চিকিৎসা সেবা পায় না রোগীরা। অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে হাওরপাড়ের রোগীরা সঠিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। সেবা নিতে আসা রোগীদের টাকা ছাড়া কোনো ওষুধ মিলছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেবার নামে অনিয়ম আর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হচ্ছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালটি।




এদিকে দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। সদর হাসপাতালে নতুন নির্মিত ৭তলা ভবনটি দীর্ঘ দুই বছর আগে কাজ শেষ হলেও নানান কারনে তা এখনো চালু হয়নি। ফলে জরাঝীর্ণ পুরাতন ভবটিতে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হয় নানা সংকটে।

হাসপাতালটিতে রয়েছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। যেখানে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা ও ফ্রি ওষুধ পাওয়ার কথা সেখানে হাসপাতালের একটি সিন্ডিকেট চক্রের শরণাপন্ন হয়ে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অন্য দিকে ওই চক্র দীর্ঘ দিন ধরে কোটি কোটি টাকার সরকারি ওষুধ রোগীদের ফ্রি না দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ফার্মেসিতে দিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্রি ওষুধ না পেয়ে রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ে চলছে লুটপাটের ব্যবসা। হাসপাতালে কর্তব্যরত কিছু তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও বাইরের কিছু লোক মিলে সিন্ডিকেট করে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোগে আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসলে এখানকার ডাক্তাররা হয় স্থানীয় ক্লিনিক গুলোতে, না হয় সরাসরি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অথবা অন্য কোন বড় ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়। ফলে হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন চিকিৎসা নিতে গিয়ে পড়েন মহাবিপদে।

এছাড়াও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা হাসপাতালে সময় মতো আসেন না। রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। জরুরী প্রয়োজনে পাওয়া যায় না সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। নেবুলাইজার, অক্সিজেন সংকট, ব্যবস্থাপত্রে রোগ অনুযায়ী ওষুধ না লিখে দামী ও অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখা এই হাসপাতালের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষে সিট-বাণিজ্য আর অনিয়ম-দুর্নীতি নিত্যদিনের ব্যাপার।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা রোগী দেখার সময় সুযোগ পেলেই নিজেদের কোম্পানীর ওষুধ লেখানোর জন্য ডাক্তারের সামনে গিয়ে হাজির হয়। পরে আবার রোগীর ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি করে তাদের কোম্পানীর ওষুধ লিখছে কি না তার ছবি তোলা শুরু করে।

১৯৯৫ সালে দেয়া সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটির নাজেহান অবস্থা। গত ৪ বছর পূর্বে স্থানীয় এমপি পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ'র চেষ্টায় একটি পুরাতন অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হলেও সেটির অবস্থা খুবই খারাপ বলে জানান চালক মুহিতুল ইসলাম। ফলে ব্যাক্তিমালিকানা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা বেশ জমজমাট। কিন্তু এসব ব্যাক্তিমালিকানা অ্যাম্বুলেন্সের নেই কোন ফিটনেস ও বৈধ লাইসেন্স। ফলে ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের চলাচল করতে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা মহিলা ওয়ার্ডের রোগী সাজিদা বেগম বলেন, জেলা সদর হাসপাতালে আইলাম ভাল চিকিৎসা পাব বলে এখন দেখি উল্টোটা। ওষুধ সব কিনে আনতে হয়। হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ পাওয়া যায় না। আর ডাক্তাররা তো আমাদের ঠিক মত দেখেও না। ফ্যান থাকলেও তা ঘুরে না।
 
চিকিৎসা নিতে আসা ছায়ারুন নেছা নামে এক রোগীর নির্দেশীকায় লেখা সকল ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে একটি ওষুধও দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ডাক্তার সাহেব বলেছেন, আপনাকে ভালো ভালো ওষুধ লিখে দিচ্ছি। এগুলো হাসপাতালে পাবেন না। বাহির থেকে কিনতে হবে। ৬০০ টাকার ওষুধ ফার্মেসী থেকে কিনেছেন তিনি।

সেফা নামে এক মধ্য বয়েসী নারী দুই সন্তানকে নিয়ে বহিঃ বিভাগের ডাক্তার দেখান। তার দুই সন্তানের ওষুধ নির্দেশিকায় ৫ থেকে ৬ প্রকারের ওষুধ লিখে দিলেও হাসপাতাল থেকে দেয়া হয় আধা পাতার ইসোরাল ট্যাবলেট। বাকি সব ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাশ গণমাধ্যমকে জানান, আমি প্রায় সময় হাসপাতালে পরিদর্শনে যাই এবং কোন সমস্যা থাকলে তার সমাধান করি। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা যাতে কোন হয়রানি ও হাসাপাতালে ভর্তি থাকা রোগী যাতে ভাল চিকিৎসা ও ওষুধ পায় তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status