ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে কাউকে ছাড় নয়: প্রধানমন্ত্রী
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 9 June, 2019, 8:23 PM

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস

বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে কড়াকড়ি আরোপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যখনই বিমানে উঠি, তখনই একটি ঘটনা ঘটে বা একটি নিউজ হয়। এটি কেন হয় আমি জানি না। এখন সবাই আবার ভিআইপি, ভিভিআইপি এরপর আবার আরও ‘ভি’ লাগবে। যত ‘ভি’ লাগুক, বাংলাদেশে (ইমিগ্রেশনে) এরপর আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আজ রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মন্তব্য করেন। ১২ দিনের সরকারি সফরের বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।




ফিনল্যান্ড সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গত বুধবার রাতে বিমানের ড্রিমলাইনার বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ ঢাকা ছেড়ে কাতারের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়াই বিমানটি চালিয়ে কাতারের দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যান পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ।

বিমানের ক্যাপ্টেনের এমন কাজের বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘হয়তো পাসপোর্ট (নেওয়া) ভুলে যেতে পারে, পাসপোর্ট (নিতে) ভোলা কোনো ব্যাপার না। এখানে ইমিগ্রেশনে যারা ছিল, তাদের তো এই নজরটা থাকতে হবে। তারা কেন সেটি চেক করেনি, দেখেনি? আমরা এখন ইমিগ্রেশনে খুব কড়াকড়ি করতে বলেছি। তিনি বলেন, প্রত্যেকের পাসপোর্টে সিল মারা আছে কিনা, তাদের চেক ভালোভাবে হচ্ছে কিনা—এসব বাড়াতে হবে। এরপর ভিআইপি এনক্লেভ আছে যেগুলো, সেখানেও তাদের লাগেজ চেক করার ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে কেউ যেতে গেলে টিকিট করে যেতে হবে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব যে কেউ যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করতে হবে।’ তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আইকাওয়ার যে সিকিউরিটি লেভেল, তার ৭০ শতাংশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আগে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনোমতে একটা ব্যবস্থা ছিল। আমরা বারবার ব্যবস্থা নিচ্ছি, চেক করছি এ জন্য অনেকের পছন্দ হবে না। কারণ আগে যেগুলো করতে পারত এখন পারছে না। আমরা ঠাট্টা করে তো বলি স্বর্ণ প্রসবীনি বিমান। খালি আমরা গোল্ড পাই, আমাদের রিজার্ভ বাড়ে-খুব ভালো কথা। সেগুলো বন্ধ করার জন্য যে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। এই সিকিউরিটির ওপরে ব্রিটিশরা বাধা দিল, একবার অস্ট্রেলিয়া বাধা দিল।

এসব ঘটনা তারা ঘটাতে পারেন, যারা বিমানকে নিয়ে খেলছেন। তাদের হতে পারে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিমানটাকে নিয়ে যারা খেলত, তাদের হয়তো আঁতে একটু ঘা লেগেছে। এখানে কারা কারা কীভাবে চাকরি পেয়েছিল, সেগুলো আপনারা ভালো করে জানেন। আমি বলেছি সব খুঁজে বের করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এতগুলো বিমান আমরা কিনে দিলাম, এত সুন্দরভাবে চলছে, আমাদের বাঙালি যে যেখানে আছেন, নিজের দেশের ক্যারিয়ারে চড়ার জন্য পাগল তারা। তিনি আরও বলেন, টিকিট নিয়ে ঝামেলা ছিল, টিকিট নাই অথচ সিট খালি। এখন আর সিট খালি থাকে না, যারা সিটের ব্যবসা করত, তাদেরও তো একটা ক্ষোভ-রাগ-দুঃখ আছে। আমার কাছে শত শত মেইল যাচ্ছে যে আপনি বিমানে আসবেন না। আমি বলেছি বিমানে আসব না মানে? যা হওয়ার হোক, মরলে নিজের প্লেনে তো মরব। নিজের প্লেনে মরলে তো নিজের মাটিতে মরব।

ধর্মীয় বিদ্বেষের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীরা যত বেশি শিক্ষিত হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে—সেটাই হবে জবাব। আমার নারী পাইলট আছে, আমার নারী অফিসার-মেজর জেনারেল আছে, আমার নারীদের তো সব জায়গায় নিয়ে এসেছি—এটা কি জবাব না? তিনি বলেন, হাত মোজা, পা মোজা পরে এটা কী? জীবন্ত একটা টেন্ট হয়ে ঘুরে বেড়ানো।

ভারত সফর ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অবস্থা হলো চীন-ভারত সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। আমরা সেভাবে চলছি, আমরা ওভাবে চলব। কোন দেশের সঙ্গে কার কী, সেটা আমাদের মাথাব্যথা না। তবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা আলাদাভাবে ভারত-চীন-জাপানের সঙ্গে কথা বলছি। তারা প্রত্যেকে এটা মেনে নেন, হ্যাঁ এরা মিয়ানমারের নাগরিক তাদের ফিরে যাওয়া উচিত। সব সময় এটাও তারা বলেন, সবাই যদি এদের (মিয়ানমার) বিরুদ্ধে লাগি, তবে এদের মানাবে কে? এটাও একটি ব্যাপার আছে।

ভাসানচরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আছে, যারা এদের এখানে ভলান্টিয়ার সার্ভিস দিতে আসে—এরা কোনো দিন চায় না যে, কোনো রিফিউজি তাদের দেশে ফিরে যাক। এখানেই সমস্যাটা। আমরা যে চুক্তি-তালিকা করলাম, তারপরে হঠাৎ এরা আন্দোলন করল যে তারা যাবে না। এই আন্দোলনের উসকানিটা তাদের কারা দিল? এই সংস্থাগুলো কখনোই চায় না যে এরা ফিরে যাক। কারণ এই বিশাল অঙ্কের টাকা, অনেকের চাকরিবাকরি থাকবে না, এটা কেন হবে? মুশকিলটা হয়েছে মিয়ানমারকে নিয়ে, তারা কিছুতেই এদের নিতে চায় না।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status