|
রাত জেগে বিশ্বকাপ খেলা দেখার টিপস
নতুন সময় ডেস্ক
|
|
রাত জেগে বিশ্বকাপ খেলা দেখার টিপস রাত জাগতে হবে বলে তাই সন্ধ্যার পর থেকে যাই খাবেন তাতে কার্বোহাইড্রেট রাখবেন না। রাতে নিন চিকেন স্যুপ বা সালাদ। সঙ্গে কিছু ফলফলাদিও রাখবেন। এতে পেট ভরার সঙ্গে রাত জাগতেও সাহায্য করবে। শর্করা জাতীয় খাবারে শরীরে গ্লাইকোজেন জমে ঘুমের প্রবণতা বাড়ে। তাই ডায়েট থেকে এই খাবারগুলো দূরে রাখুন। এছাড়া এক গ্লাস পানিতে ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজও খেয়ে নিতে পারেন। সামান্য ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে কিছুটা সবজি অথবা মাংস থাকতে পারে। তবে কোনোভাবেই যেন দুপুরের খাবারটি ভরপেট না হয়। যে খাবারগুলো রাখবেন না রাত জাগতে হলেই দরকার ব্ল্যাক কফি বা ডার্ক চকোলেট, চিপস। কিছুটা মদ্যপান হলেও মন্দ হয় না। এগুলো হয়তো সাময়িক ঘুম কাটাবে আপনার, কিন্তু তার প্রভাব কাটলে স্নায়ু ও পেশী যেভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়বে তার রেশ পরেরদিনের কাজেও পড়বে। তাই এগুলো বাদ দিয়ে ডিনারের সঙ্গে রাখুন হালকা মিষ্টিজাতীয় খাবার— যা ঘুম কাটাবে। মিষ্টিও কম খাবেন, যাতে গ্যাসট্রাইটিসের সমস্যা না হয়। আর কোনো ঘুমের ওষুধ চলাকালে রাত না জাগাই ভাল। তাও খেলা দেখার খুব ইচ্ছে হলে পরামর্শ নিন চিকিৎসকের। সিগারেট একেবারেই নয় সিগারেট এড়িয়ে চলুন। রাত জাগতে হলে সিগারেট না হলে তো অনেকের একেবারেই চলে না। এটা সবসময়ের জন্যই ক্ষতিকর। আর রাত জাগতে হলে তো আরও বেশি। তামাক শরীরের নার্ভাস সিস্টেমকে উত্তেজিত করার সঙ্গে হার্ট সিস্টেমেরও ব্যাঘাত ঘটায়। মস্তিষ্কের কিছু নিউরোট্রান্সমিটারকে উদ্দীপিত করে। তাই রাত জাগতে গেলে সিগারেট বাদ দিতেই হবে আপনাকে। শরীরচর্চা প্রয়োজন রাত জাগলে অন্যান্য দিনের রুটিনের একটু বদল আসেই। তাই শরীরের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে একটু ব্যায়াম করবেন। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তারাও চেষ্টা করুন হালকা ব্যায়াম করতে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা আবার ব্যায়ামের পরিমাণটা একটু কমিয়ে দিন। এতে করে ক্লান্তি একটু কম লাগতেই পারে। ন্যাপ বা হালকা ঘুম ফাক পেলেই হালকা একটা ঘুমের কোনো বিকল্পই হয় না। সারা দিনে সময় পেলেই ঘুমিয়ে নিন, সেটা আধাঘণ্টার জন্য হলেও। সারাদিনের ফাঁকে এমন বিরতি নিলে রাত জাগা অনেক সহজ হবে। রোগ থাকলে সাবধান গবেষণা মতে, খেলা দেখার সময় উত্তেজনা টেস্টোস্টেরন নামক হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। খেলা দেখার সময় এই টেস্টোস্টেরন বেড়ে গেলে দর্শক উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে রাত জেগে খেলা দেখার কারণে সৃষ্ট উত্তেজনায় রক্তে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে মানসিক চাপ আরও বাড়ে। সবকিছু মিলিয়ে খেলা দেখতে গিয়ে রাত জাগলে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদির কষ্ট কিছুটা বাড়ে। এসব রোগ স্ট্রেসের সঙ্গে সম্পর্কিত। খেলা দেখার সঙ্গে সরাসরি স্ট্রেসের বিষয়টি জড়িত। এই স্ট্রেসের মধ্যে রয়েছে পজিটিভ স্ট্রেস এবং নেগেটিভ স্ট্রেস। প্রিয় দলে বিজয়ের আনন্দ একধরনের পজিটিভ স্ট্রেস। তবে এই স্ট্রেস টানা ৭ দিন চললেই কিন্তু ব্লাডসুগার বাড়বে। বাড়তে পারে ব্লাড প্রেসারও। এজন্য কোনো ওষুধের ডোজ বাড়ানো ঠিক হবে না, বিশ্রাম নিতে হবে। ঘুমটা যাতে নিরবচ্ছিন্ন হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের মৃগীর সমস্যা রয়েছে তাদের ঘুম কম হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের সমস্যা সবসময়ের জন্য থাকলে রাত না জাগাই ভালো। জাগলেও ওষুধপথ্য আর চিকিৎসার জন্য সবসময় চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেবেন। কীভাবে দেখবেন টিভি গরমে, ঘামে, অনিদ্রায় আর টানা টিভি দেখার কারণে ঘাড়ব্যথা, মাথাব্যথা হতে পারে। গরমের অস্বস্তি এড়াতে রাতের গোসল কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। বেশি মাথাব্যথা হলে একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেটই যথেষ্ট। সঙ্গে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে হাত-পা ধুয়ে নিলে শরীরটা ভালো লাগবে। অনেকেরই ধারণা একটানা রাত জেগে খেলা দেখলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। এক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন টিভি সেটটা অন্তত ৭-৮ ফুট দূরে থাকা উচিত। টিভি সেট রাখতে হবে চোখের যে উচ্চতায় রয়েছে একই উচ্চতায়। ঘাড় উঁচু-নিচু করে খেলা দেখতে গেলে ঘাড়ের ব্যথায় অবস্থা কাহিল হয়ে যেতে পারে। ঘাড়ের এই ব্যথা চলে যেতে পারে মাথায় ও চোখে। খেলা দেখার সময় শরীরটাকে কীভাবে রেখে খেলা দেখছেন সেটাও জরুরি। শরীরের অবস্থানটা ঠিক না থাকলে কোমর ব্যথাও হতে পারে। কোমরের পেছনে একটা কুশন দিয়ে আরাম করে খেলা দেখুন। একেবারে শুয়েও দেখতে পারেন। মাঝেমধ্যে পাশ ফিরে নেবেন, মাঝেমধ্যে উঠে বসবেন। ঘর পুরো অন্ধকার করে টিভি দেখা ঠিক নয়। যারা নিয়মিত খেলা দেখছেন তারা হাফটাইমের সময় চোখ বুজে শুয়ে থাকলে আরাম বোধ করবেন। অথবা বারান্দায় পায়চারি করতে পারেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
