|
'মিমোষা'স ইউটোপিয়া' মানে লিমুর স্বপ্নরাজ্য
সাকিব আল রোমান
|
|
'মিমোষা'স ইউটোপিয়া' মানে লিমুর স্বপ্নরাজ্য একটু ভিন্ন চিন্তা চেতনাই লিমুর মাথায় এসেছিল নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা। হাত বাড়ান বুটিক ব্যবসার দিকে। জন্ম দেন মিমোষা'স ইউটোপিয়া। কেমন ছিল মিমোষা লিমুর বুটিক ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই? এ বিষয়ে 'নতুন সময়'র এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় মিমোষা'স ইউটোপিয়া প্রধান নির্বাহী মিমোষা লিমু হাওলাদার এর সাথে। ভিন্নতা আমার অন্য সব ভাইবোনদের চেয়ে আমার চিন্তাধারা অন্যরকম। সবসময় নতুনের প্রতি আমার ঝোঁক ছিল, চাইতাম নিজে কিছু উদ্ভাবন করি। বিশেষ করে পোশাক আর স্টাইলের ক্ষেত্রে। তাই একেক সময় একেক স্টাইলের জামা ডিজাইন করে পরতাম আর একটু বেশি স্টাইলিশ ছিলাম বলে সবার হাসির পাত্রী হতাম। অনেকে অনেক কিছু বলে তাই বলে থেমে থাকার মেয়ে আমি না, বর্তমান সময়টা আমার, যারা আমাকে নিয়ে হাসতো তারাই এখন বিভিন্ন উৎসবে আমার সাজেশন নেয়। স্বাধীনচেতা লিমু আমি একটু বেশি স্বাধীনতা প্রেমী, তাই চাকুরির প্রতি আমার ঝোঁকটা কম ছিল। ছোটবেলা থেকেই মাকে বলতাম জুতা আর কাপড়ের ব্যবসা কর আর আমি নিজেও পড়াশোনা করি ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে। বর্তমানে ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এমবিএ ফাইনালে পড়ছি, পাশাপাশি চালিয়ে নিচ্ছি আমার শখের অনলাইন স্টোর "মিমোষা'স ইউটোপিয়া"। মিমোষা'স ইউটোপিয়ার পেছনের গল্প মিমোষা'স ইউটোপিয়া শুরু করার পেছনের গল্পটা একটু অন্যরকম। ব্যবসা করার ইচ্ছে ছিল কিন্তু মূলধন ছিলোনা। এর মাঝে ২০১৭ সালের ৯ই এপ্রিল আমার বিয়ে হয় বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেলের লীড ভোকাল এবং রিফ গিটারিস্ট জর্জ লিংকন ডি'কস্তার সাথে। এতটুকু পড়ার পরে সবাই হয়তো ভাবতে পারে শিল্পীদের অনেক টাকা আর মূলধনের অভাব হবে না। কিন্তু ব্যপারটা এতো সহজ না, যাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম গান তারাই বুঝবেন ব্যাপারটা। সংগীতশিল্পীদের বছরের বেশিরভাগ সময় বেকার থাকতে হয় তাই পিঁপিলিকার মতো শীতের সঞ্চয় করে চলতে হয়, এটা সাধারণ মানুষ জানতে পায় না বা বোঝে না কোনদিন। তবুও ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নিজের স্বপ্নের কথা লিংকনের কাছে বলি, যেহেতু ততোদিনে অনলাইন বিজনেস খুব জনপ্রিয় তাই খুব কম মূলধন দিয়ে হলেও আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহায্য করে এবং সেই থেকে প্রতিটা পদে আমি তাকে পাশে পেয়েছি, কখনও লাভ হয়েছে কখনও লস কিন্তু সব অবস্থায় লিংকন আমাকে অভয় দিয়ে বলেছে, অভিনন্দন অথবা মন খারাপ করো না তুমি পারবে। নামকরণ পেইজের নামকরণের ভূমিকাও আমার স্বামীর, আমার স্বপ্নের সাথে মিলকরণ করে নাম রাখা হয় 'মিমোষা'স ইউটোপিয়া' মানে মিমোষার স্বপ্নরাজ্য। নিজে কিছু শাড়ি, গাউন ডিজাইন করি সাথে জুয়েলারি এবং কসমেটিকসও পাওয়া যায় আমার পেইজে। লিমুর ভাবনা আমি চাই খুব কমে যেন ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারি। আমার বিজনেসের প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত যে কোন অবস্থায় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন আমার বাবা, মা, শাশুড়ি মা, আমার স্বামী এবং আমার বান্ধবী তাসলিমা। আমার অনলাইন বিজনেসের অন্যতম অনুপ্রেরণা প্রভা আপু আর শিথী আপু। অনেক বাঁধা পার করেছি কিন্তু এই মানুষগুলো আমাকে থেমে থাকতে দেয়নি। স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত না হয়ে নিজের একটা পরিচয় গড়ে তুলে মানুষের সেবা করার সবসময়ই অভয় দিয়েছে বাবা। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
