|
বেকিং সোডায় সেরে উঠবে মরণব্যাধি ক্যান্সার!
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বেকিং সোডায় সেরে উঠবে মরণব্যাধি ক্যান্সার! ক্যান্সার কীভাবে হয়? বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারণভাবে কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। বলতে গেলে যখন এই কোষগুলো কোনো কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই বলা হয় টিউমার। এই টিউমার কখনো বিনাইন বা আবার ম্যালিগন্যান্ট টাইপ হতে পারে। আর ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই মূলত ক্যান্সার বলে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম হয়ে বৃদ্ধি পাওয়া কলাকে নিওপ্লাসিয়া (টিউমার) বলে, এবং সেরকম ক্রিয়া যুক্ত কোষকে নিওপ্লাস্টিক কোষ বলে। নিওপ্লাস্টিক কোষ আশেপাশের কলাকে ভেদ করতে না পারলে তাকে বলে নিরীহ বা বিনাইন টিউমার। তবে বিনাইন টিউমার কোনো ক্যান্সার জাতীয় রোগ নয়। নিওপ্লাসিয়া কলা ভেদক ক্ষমতা সম্পন্ন হলে তাকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সার এবং তার অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনক্ষম ভেদক ক্ষমতাযুক্ত কোষগুলোকে ক্যান্সার কোষ বলে। অনেকেই হয়ত বুঝতে পারে না, অনেক ক্যান্সার কোষ প্রথমে বিনাইন টিউমার হিসেবে শুরু হয়, পরে তার মধ্যেকার কিছু কোষ পরিবর্তিত (ট্রান্সফর্মেসন) হয়ে ম্যালিগন্যান্ট (অর্থাৎ ভেদক ক্ষমতাযুক্ত) হয়ে যায়। তবে বিনাইন টিউমার ক্যান্সারে পরিবর্তিত হবেই তার কোনো স্থিরতা নেই। কিছু বিনাইন টিউমার সদৃশ ব্যাধি আছে যাতে ক্যান্সার হওয়া অবশ্যম্ভাবী- এদের প্রি-ক্যান্সার বলে। তবে বিনাইন টিউমারও চাপ দিয়ে আশেপাশের কলার ক্ষতি করতে পারে। মেটাস্ট্যাসিস হলো ক্যান্সারের একটি পর্যায়, যাতে ক্যান্সার কোষগুলো অন্যান্য কলাকে ভেদ করে ও রক্ত, লসিকাতন্ত্র (Lymphatic System) ইত্যাদির মাধ্যমে দূরবর্তী কলায় ছড়িয়ে যায়। ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বের না হলেও ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যত তথ্য উপাত্ত গবেষকদের হাতে এই পর্যন্ত এসেছে, তাতেও কোনো ভালো ফল হাতে আসেনি। তাই বর্তমান বিশ্বেরও ক্যান্সারে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। উন্নয়নশীল দেশে এ রোগে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুরমুখে পতিত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এটি কিন্তু অনিরাময়যোগ্য নয়। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায় কিন্তু এখনো ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। এ কারণে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এর চিকিৎসা খরচ কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। বর্তমানে এর যে চিকিৎসা, তা অনেক ব্যয় বহুল হওয়ায় প্রতিবছর এই রোগের কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেই সংখ্যা হয়ত এখন কমতে পারে। কারণ, সম্প্রতি সে আশার বাণী শুনিয়েছেন ইতালির এক গবেষক তুলিও সিমোনসিনি। তার দাবি অনুযায়ী, মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা মূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় ঘরোয়া উপাদানেই সেরে উঠতে পারে ক্যান্সার। আর সে উপাদানটি হলো খাবার সোডা অর্থাৎ বেকিং সোডা। তুলিও’র লেখায় তিনি লিখেছেন, ‘ক্যান্সার ইজ অ্যা ফাঙ্গাস অ্যা রিভল্যুশন ইন টিউমার থেরাপি’ বইয়ে বেকিং সোডার সাহায্যে ক্যান্সারাক্রান্ত অনেক রোগীর চিকিৎসা করেছেন বলে দাবিও করেছেন তিনি। তবে এখনো পর্যন্ত ২০০ ধরনের ক্যান্সারের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর বেকিং সোডা ব্যবহার করে সব ধরনের ক্যান্সারকে মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে বলে জানান এই বিজ্ঞানী। জানা গেছে, গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা করে আসছেন তুলিও সিমোনসিনি। তিনি এমন অনেক ক্যান্সার রোগী পেয়েছেন, যাদের সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে অধিকাংশ চিকিৎসকই হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে তিনি এই বেকিং সোডা ব্যবহারে সেসব মৃত্যুপথযাত্রীদের সারিয়ে তুলেছেন। ক্যান্সার আসলে কী এবং কেন বেকিং সোডায় এই রোগ সেরে উঠবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তুলিও বলেন, ক্যান্সার এমন একটি আলসার যেখানে বিকৃত কোষগুলো জমা হয়ে শরীরের ভেতরেই আলাদা একটা বসতি গড়ে তোলে। তিনি আরো বলেন, ত্বকের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভালো উপাদান হলো বেকিং সোডা এবং টিংচার আয়োডিন। তবে গবেষক তুলিও সিমোনসিনির এ তথ্য-উপাত্তে এখনো অন্য কোনো গবেষকদের মতামত পাওয়া না গেলেও বেকিং সোডা যে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে অন্তঃকোষীয় কার্যসাধনে সক্ষম, সে বিষয়ে অনেকেই একমত হয়েছেন। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
