শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রার্থনার সময় ৭টি স্থানে একইসঙ্গে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার পর রাজধানী কলম্বোর উত্তরাঞ্চলের নেগোম্বো মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও যানবাহনে হামলা করেছে দেশটির উগ্রপন্থী খ্রিষ্টানরা। ওই হামলার পর শহরটিতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকালের দিকে মুসলিমদের ওপর হামলা চালায় খ্রিস্টানরা।
জানা গেছে, মুসলিমদের ওপর এই হামলার পর দেশটির রোমান ক্যাথলিক চার্চের যাজক উভয় সম্প্রদায়কে শান্ত থাকার ও মদ নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রার্থনার সময় নেগোম্বো শহরেও আত্মঘাতী হামলা হয়। ওই হামলার পর অনেক মুসলিম তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। ইতোমধ্যেই সোমবার মুসলিমদের দোকানপাট, বাড়িঘর ও যানবাহনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের কয়েক ডজন বাড়িঘর, দোকান ও যানবাহন আক্রান্ত হওয়ার কারফিউ কার্যকর করার জন্য শহরটিতে নিরাপত্তাবাহিনীর শত শত সদস্য প্রবেশ করেছেন।
এদিকে দেশটির পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেছেন, সোমবারের সংঘর্ষের পর নেগোম্বো থেকে অন্তত দু’জনকে গ্রেফতার এবং আরো কয়েকজন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ভিডিওফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। ইস্টার সানডের পর দেশটির পার্লামেন্টে পাস হওয়া জরুরি আইনে এই হামলাকারীদের বিচার হবে বেলে জানিয়েছেন তিনি।
লঙ্কান এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, খ্রিষ্টান-মুসলিমদের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। যদিও আমরা এ মুহূর্তে মাত্র দু’জনকে গ্রেফতার করেছি। আরো বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে; শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।
সোমবার রাতের হামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওফুটেজে দেখা যায়, উত্তেজিত খ্রিষ্টানরা নেগোম্বোর মুসলিমদের দোকানপাটে হামলা, তাদের বাড়িঘরের আসবাবপত্র ও জানালা ভাঙচুর এবং যানবাহন উল্টে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার (২১ এপ্রিল) ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রার্থনার সময় ৭টি স্থানে একইসঙ্গে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫৭ জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক।
এদিকে কলম্বোর আর্চবিশপ কার্ডিনাল ম্যালকম রণজিৎ বলেছেন, ‘একজন মুসলিমকেও যেন আঘাত করা না হয়, আমি সব ক্যাথলিক ও খ্রিষ্টান ভাইবোনদের সেই আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।’
এক ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘এমন অবস্থায় দয়া করে তাদের আঘাত করা থেকে বিরত থাকুন এবং শ্রীলঙ্কার সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া তৈরির চেষ্টা করুন।’ ইস্টার সানডের হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে নেগোম্বো শহরে। নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায় আইএসের আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক শ’ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।