|
বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার, কোথায় কেমন?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার, কোথায় কেমন? রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে নিট পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ওভেনের তুলনায় বেশি। জুলাই-অক্টোবরে নিট পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৭৭৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৬০২ কোটি ডলার। মোট পোশাক রফতানিতে নিট পণ্যের অংশ দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি বাজারভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আলোচ্য চার মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে। দেশটিতে রফতানি আয় ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৫ কোটি ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২৫৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিট ও ওভেন; দুই ধরনের পোশাকের রফতানিই বেড়েছে। নিট পোশাক রফতানি ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আর ওভেন পোশাক রফতানি বেড়েছে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ১৭৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বেড়ে ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ অংশ ছিল ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের মোট ওভেন পোশাক রফতানির প্রায় ২৯ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। ইউরোপে প্রবৃদ্ধি কম, স্পেন এখন বড় বাজার বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে এ বাজারে রফতানি প্রবৃদ্ধির গতি তুলনামূলক কম। জুলাই-অক্টোবরে ইইউতে পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৬৪৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তবে মোট রফতানিতে ইইউর অংশ কমে ৪৬ দশমিক ৭৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অংশ ছিল ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। ইইউর বাজারে নিট পোশাক রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিপরীতে ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ। দেশভিত্তিক হিসাবে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে নতুন চিত্র দেখা গেছে। স্পেনে রফতানি ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে জার্মানিকে ছাড়িয়ে স্পেন এখন ইইউতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক পোশাক রফতানি বাজার। জার্মানিতে রফতানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটি থেকে রফতানি আয় এসেছে ১৪৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসে রফতানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, পোল্যান্ডে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং সুইডেনে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। রোমানিয়ায় রফতানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ৪৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে ইউরোপের কয়েকটি বড় বাজারে রফতানি কমেছে। ফ্রান্সে ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ইতালিতে ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, ডেনমার্কে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ এবং বেলজিয়ামে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ রফতানি আয় কমেছে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারেও প্রবৃদ্ধি যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। জুলাই-অক্টোবরে দেশটিতে রফতানি আয় হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলার। এ বাজারে নিট পোশাক রফতানি ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ বাড়লেও ওভেন পোশাকে রফতানি কমেছে ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে কানাডার বাজারে রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৪১ শতাংশ। দেশটিতে চার মাসে পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ২৯ লাখ ডলার। অপ্রচলিত বাজারে তুরস্কের চমক প্রচলিত বড় বাজারের বাইরে অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে। জুলাই-অক্টোবরে এসব বাজারে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৩৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। মোট পোশাক রফতানিতে এসব বাজারের অংশ বেড়ে ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে। আগের বছর এ অংশ ছিল ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রফতানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দেশটিতে পোশাক রফতানি ১০৭ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে ২০ কোটি ৬৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। অপ্রচলিত বাজারগুলোতে মোট রফতানি বৃদ্ধির প্রায় ৫৩ শতাংশ এসেছে শুধু তুরস্ক থেকে। তুরস্কে নিট পোশাক রফতানি বেড়েছে ১১৭ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার। দেশটিতে রফতানি ২ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ৪৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া মেক্সিকোতে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ব্রাজিলে ৩৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে কয়েকটি বাজারে রফতানি কমেছে। ভারতে ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, চীনে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ, রাশিয়ায় ১৬ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং নিউজিল্যান্ডে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ রফতানি আয় কমেছে। বড় দুই বাজারের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের সম্মিলিত অংশ এখনও সবচেয়ে বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ দুই বাজারে গেছে দেশের মোট পোশাক রফতানির ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ ইউরোপের বাজারে প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা এবং অপ্রচলিত বাজারে রফতানি বাড়ার কারণে বড় দুই বাজারের ওপর নির্ভরতা সামান্য কমেছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবরে দেশের মোট পোশাক রফতানি বেড়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকেই এসেছে অতিরিক্ত ২৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। মোট রফতানি বৃদ্ধিতে দেশটির অবদান প্রায় ৩৫ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারগুলোর অবদান প্রায় ২৭ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৩ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের ১৪ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বলেন বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি এবং অপ্রচলিত বাজারে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ রফতানি বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর আমাদের অতিরিক্ত নির্ভরতা রয়েছে। সে জায়গা থেকে অপ্রচলিত বাজারে রফতানি বাড়া বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ দশমিক ৭৯ শতাংশে সীমিত থাকা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে রফতানি কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপ এখনও আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার। সেখানে ক্রেতাদের চাহিদা, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের বৈচিত্র্য ও গুণগত মান বাড়াতে হবে। মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। শুধু রফতানির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, পণ্যের মূল্য সংযোজন, উৎপাদনশীলতা ও মুনাফাও বাড়াতে হবে। এ জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ব্যবসার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। রফতানি প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে হলে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে ইউরোপের মতো বড় বাজারে প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে রফতানি হ্রাসের বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
আবুধাবিতে দূতাবাসের উদ্যোগে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
ময়মনসিংহে আওয়ামী সন্ত্রাসী শাহীনের মটর ঘর থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার! নেপথ্যে কারা?
নাঙ্গলকোটে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, তারেক রহমানকে নিয়ে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
বেতছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতে হিল ভিডিপির স্বেচ্ছাশ্রম
