নিকলীতে মাদকাসক্ত আসামীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেফতার ৩
এম এ আজিজ, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: Tuesday, 3 November, 2026, 8:21 PM
নিকলীতে মাদকাসক্ত আসামীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেফতার ৩
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে মাদক মামলার আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় চিহ্নিত কিশোর গ্যাং নেতা সিয়াম হাসান অক্ষয় (২৭) ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার সিয়াম হাসান অক্ষয় নিকলী সদরের খালিসাহাটি গ্রামের বাহার উদ্দিন বাচ্চুর ছেলে। তিনি নিকলী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, তবে বর্তমানে বহিষ্কৃত। স্থানীয়দের অভিযোগ, অক্ষয় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মাদকচক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক বা গডফাদার হিসেবে পরিচিত।
গ্রেফতার অপর দুজন হলেন নিকলী সদরের পুকুরপাড় গ্রামের ফেরদৌস মিয়ার ছেলে শাহরুখ (২৭) ও একই গ্রামের মিয়া হোসেনের ছেলে হিমেল (২৭)। পুলিশ অক্ষয়কে বড় তালাবপাড় গ্রামের তার শ্বশুরবাড়ি থেকে এবং শাহরুখ ও হিমেলকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে নিকলী সদরের টিএন্ডটি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ শাকিল (২২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় খবর পেয়ে সিয়াম হাসান অক্ষয় ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে আটক শাকিলকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিকলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুষার বাদী হয়ে অক্ষয়সহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে নিকলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অক্ষয়ের নেতৃত্বে এলাকায় শতাধিক কিশোরের একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক কারবার ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলেও দাবি এলাকাবাসীর।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইশতিয়াক আহমেদ জানান, মাদক, ইভটিজিং ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু এই তিনজনকে গ্রেফতার করেই অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্রের নেপথ্যের হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।