|
রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে এখনও নিখোঁজ যশোরের একই পরিবারের চারজন
স্বজনদের আশঙ্কা, উদ্ধার অজ্ঞাতপরিচয়ের মরদেহগুলো তাদের হতে পারে
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে এখনও নিখোঁজ যশোরের একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। নাহিদুর ঢাকায় শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুর শ্যাওড়াপাড়াতে বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্য ও কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীরা। তবে শনিবার রাত ১২ টা পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বজনদের আশঙ্কা, উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের মধ্যে তারাও থাকতে পারেন। স্বজনেরা জানান, নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সাইন্স বিভাগে পড়তেন। নাহিদুরের বড়ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স মনিরামপুর পৌরশহরে বসাবস করেন। নাহিদুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজারের হোটেলটির বুকিংয়ের বিলের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান এই প্রতিবেদককে। বিলের কপিতে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ বুকিং করেছিলেন নাহিদুর। তিনি ১১ অক্টোবর রিসোর্ট বুকিং দিয়েছিলেন। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। ভাই জাহিদুর জানান, নাহিদুর শুক্রবার কক্সবাজার যাবেন বলে বলেছিলেন। শনিবার আগুনের ঘটনা জানার পর ভাইকে মোবাইলে ফোন দেন। কিন্তু তিনি মোবাইলে নাহিদুর বা পরিবারের কাউকে পাচ্ছেন না। মোবাইল ফোনে তার ভাইদের না পেয়ে শনিবার সন্ধ্যা নিজে রওনা হয়েছেন। তিনি জানান, তারা দুই ভাই। মা নেই। অসুস্থ বাবা আমাদের সাথে গ্রামে থাকে। বাবা এখনো জানেন না নাহিদুরের ঘটনা। কে নিয়ে ঢাকাতে বসবাস করতেন। ছুটি পেলে বা উৎসবে তারা গ্রামেতে আসতো। তারা বেঁচে আছে না, মারা গেছে সেটাও নিশ্চিত হতে পারেনি। তাদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি। নাহিদুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, “নাহিদ নামে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, বাকিদের বিষয়ে কিছু জানি না।” তিনি জানান, ছয়জন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও নিহত বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে বাকি চারজন নাহিদুরের পরিবার। এদিকে, নাহিদুর ও তার পরিবার নিখোঁজের খবর শনিবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের ছবি পোস্ট করে সমবেদনা জানাতে দেখা গেছে। এর আগে, শনিবার সকালে উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেকের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ জন নিহত হন। এদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগে; দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ১০টি মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে মরদেহগুলো ভয়ানক রকমভাবে পুড়ে অঙ্গার গেছে। চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
