লে-অফ প্রত্যাহার ও কারখানা চালুর দাবিতে মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 12 October, 2026, 10:40 PM
লে-অফ প্রত্যাহার ও কারখানা চালুর দাবিতে মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বার বাড়ি এলাকায় এএমসি নীট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় লে-অফ ঘোষণার প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁদের অবরোধে মহাসড়কের ময়মনসিংহগামী লেনে প্রায় ২০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এর আগে সকাল ৮টা থেকেই কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, কারখানার প্রধান ফটকের পাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ও কারখানার ঝুট ব্যবসায়ীরা তাঁদের বাধা দেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নেন।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত উৎপাদনকাজ না থাকা এবং বয়লারের সমস্যার কারণ দেখিয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে কারখানাটির গার্মেন্টস ও কাটিং বিভাগের (ইউনিট-২) প্রায় ৫৮৫ জন শ্রমিককে লে-অফের আওতায় আনা হয়েছে।
শ্রমিকেরা জানান, প্রথমে হঠাৎ করে কারখানায় দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে গত শনিবার কারখানার সামনে লে-অফের নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে তাঁদের পাওনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো আলোচনা করেনি বলে অভিযোগ তাঁদের।
কবে নাগাদ কারখানাটি চালু হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে জানান শ্রমিকেরা। এতে তাঁদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমান কারখানা চালুর অপেক্ষায় থাকবেন, নাকি অন্য কোথাও কাজ খুঁজবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
শ্রমিকেরা বলেন, কাজ বন্ধ থাকলেও ঘরভাড়া, খাবারসহ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় বহন করতে হয়। আয় বন্ধ হয়ে গেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত কারখানা খুলে দিয়ে তাঁদের কাজে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
অবরোধের খবর পেয়ে সালনা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। দাবি সমাধানের আশ্বাস পেয়ে তাঁরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুর রহমান বলেন, সোমবার সকালে মেম্বার বাড়ি এলাকায় শ্রমিকেরা অল্প সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় বড় ধরনের যানজট বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।