সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত দুর্গাপুর গড়তে কাজ করতে হবে : ডেপুটি স্পিকার
ধনেশ পত্রনবীশ, দুর্গাপুর
প্রকাশ: Monday, 28 September, 2026, 8:15 PM
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত দুর্গাপুর গড়তে কাজ করতে হবে : ডেপুটি স্পিকার
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্মানিত নিয়ে, সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত প্রাণের দুর্গাপুর গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করতে করতে আহবান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। ব্যবসায়ীদের নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ব্যবসা পরিচালনার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দুর্গাপুর বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আপনারা যখন মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিলেন, তখন আমি ওয়াদা করেছিলাম আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত দুর্গাপুর গড়ার জন্য কাজ করব। সেই লক্ষ্যেই আমরা চেষ্টা করছি। কতটুকু সফল হয়েছি, সেই বিচারের ভার আপনাদের ওপর।”
তিনি আরো বলেন, “আমি বলছি না যে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। তবে আমাদের সদিচ্ছা আছে। হয়তো একদিনে সবকিছু সম্ভব নয়। গত দেড় দশকের চাঁদাবাজির সংস্কৃতি, চাইলেই গত সাত মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরিবর্তনের জন্য আমাদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা রয়েছে।”
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মূল চাহিদা হলো তারা যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা হতে পারেন কিংবা সমাজের তথাকথিত ক্ষমতাবান ব্যক্তি হতে পারেন। কিন্তু আইনের চেয়ে ক্ষমতাবান কেউ নয়। সে যেই হউক না কেনো, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রতিও আমার অনুরোধ আপনারা মুনাফা করবেন, কিন্তু জনগণকে ঠকিয়ে মুনাফা করবেন না। সুযোগ টা সৎ পথে ব্যবহার করবেন, অসৎ পথে ব্যবহার করবেন না। ৪০ কেজির মণকে ৪২ কেজির মণে পরিণত করবেন না। একজন কৃষক রক্ত পানি করে ফসল ফলান। সেখানে ৪৩ কেজি মেপে ৪০ কেজির দাম দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। শুধু জরিমানা করলেই হবে না, প্রয়োজন হলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
দুর্গাপুর শহরের শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দুর্গাপুর পৌরশহরকে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আমাদের আরও পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পৌর সুপার মার্কেট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফুটপাত মানুষের চলাচলের জন্য রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।
দুর্গাপুরের পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর কয়েকদিন পর থেকেই সারাদেশ থেকে মানুষ দুর্গাপুরে আসবেন। আপনাদের ও আমাদের জন্য এখানে অর্থ উপার্জনের অনেক সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। কেউ যদি এর অসদ্ব্যবহার করতে চান, আইন তাকে রক্ষা করবে না।
নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমি নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাইআমরা একটি সুন্দর ও মানবিক দুর্গাপুর গড়ে তুলব। যেখানে প্রত্যেক নাগরিক তার অধিকার ভোগ করবেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবেন।
মাদকমুক্ত ও মানবিক দুর্গাপুর গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাব। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত। অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ও পৌর বিএনপি‘র নেতৃবৃন্দ, ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ, দুর্গাপুর বাজার ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।