ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় চলন্ত গাড়িতে ‘ছাবল’ মেরে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। এ ঘটনায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মো. মুসলিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় তাঁদের চলন্ত গাড়িতে ছাবল মারা হয়। এতে বিকট শব্দ হলেও গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত চালিয়ে যান চালক মো. নুর ইসলাম।
মুসলিম উদ্দিনের দাবি, গাড়ি থামালে ডাকাতরা হামলা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি চালককে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। চালকের সতর্কতা ও বিচক্ষণতায় তাঁরা ওই এলাকা পার হতে সক্ষম হন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে সারোয়ার জাহান লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ, অনেক সুন্দর পরামর্শ ভাই। কিন্তু ড্রাইভারের দক্ষতা ও বিচক্ষণতার জন্য বেঁচে গেছেন—কথাটা ঠিক নয়। এটা বলা সুস্পষ্ট শিরক। আল্লাহর মেহেরবানী ও রহমতে বেঁচে গেছি। ড্রাইভারের দক্ষতা ও বিচক্ষণতা প্রশংসনীয় ও সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।’
অপর এক মন্তব্যে একেএম তাউহিদুজ্জামান দাবি করেন, ভাওয়াল উদ্যানের কাছে এমন ঘটনা বেশি ঘটে। সেখানে একটি ছোট কালভার্ট রয়েছে, যার নিচ দিয়ে রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়া যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গাড়ির আরোহী সুলতান আহমেদ মন্তব্যে জানান, ওই গাড়িতে তাঁর মা ছিলেন। তিনি বলেন, গতকাল রাতে মিরপুর-১ থেকে তাঁদের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লাহ পাকের রহমতে গাড়ির সবাই ভালো আছেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেন ও সচেতন মহলের অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।