আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবগুলো বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে বলে মনে করেন নাহিদা বেগম।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে খুনের পেছনে অতীতের কোনো ঘটনার জের কাজ করেছে কিনা সেই প্রশ্ন তুলেছেন তার মা নাহিদা বেগম।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এই সহকারী অধ্যাপক মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবগুলো বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজের কিছু সন্দেহের কথা জানান।
অপ্রতিম শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নাহিদা বেগম বলেন, “আমি এক সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ছিলাম। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছি। সে সময় অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
“আমাকে একটি সূত্র বলেছে, সে সময় তুহিনের (সাইফুল ইসলাম তুহিন; যে এই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছে।) গ্যাংয়ের কেউ কেউ ধরা পড়েছিলো। প্রথমদিন এই কথাগুলোই উঠে এসেছে। হয়ে থাকতে পারে তারা আমার উপর প্রতিশোধ নিতেই ধীরে ধীরে এই পরিকল্পনা করেছে। এখন পুলিশকেই তা খুঁজে বের করতে হবে।”
অপ্রতিমের মা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সরবরাহকারী যারা, তাদেরকেও আমার সন্দেহ হয়। আমার উপর তাদের রাগ থাকবেই- স্বাভাবিক। কারণ ওই সময় এই বিষয়গুলো আলোচনায় চলে আসছিলো যে, কারা হলে সাপ্লাই দেয়, কারা শহীদ মিনারে দেয়, কারা খাওয়াচ্ছে।”
অপ্রতিম হত্যা মামলায় যে দুজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বয়স নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে নাহিদা বেগম বলেন, “যাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক দেখানো হয়েছে, তাদের পরীক্ষা করা হোক। বয়স লুকিয়ে তাদের শাস্তি হিসেবে যদি সংশোধনাগারে পাঠানো হয় তারা বের হয়ে তখন আবার আমাদের নিরাপত্তার হুমকি হবে। তাদের ফাঁসি হলেও আমি আমার অপ্রতিমকে পাবো না। কিন্তু আমি চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক।”
অপ্রতিমের ‘অসম’ বয়সিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রসঙ্গে তার মা বলেন, “আমরা তাকে ব্যস্ত রাখার জন্য স্কুলের বাইরেও দুজন প্রাইভেট শিক্ষক রেখেছি। আমি কখনো চাইনি, আমার ছেলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হোক। আমি চেয়েছি, আমার ছেলে সারা পৃথিবী ঘুরবে। সব নিজে নিজে চিনবে। ফটোগ্রাফি শিখুক, সাইক্লিং শিখুক। আমি যখনই শুনেছি ও এমন কারো সাথে মিশছে, আমি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে কঠোর হয়ে গিয়েছি।”
“যখন থেকে আমি অনুভব করেছি তাদের বন্ধুবান্ধব বেশি হয়ে গেছে বা হয়ে যেতে পারে- তখন থেকেই আমাদের প্রতিরোধ ছিলো। হুট করেই শুনলাম একটা সিনিয়র গ্রুপ তার সঙ্গে মিশছে। যেহেতু আমার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোলে কোলে বড় হয়েছে তার কাছে সিনিয়র- জুনিয়র বোধটাই নাই। ও মনে করে সবাই ওর ভাই। সবাই ওর আপন।”
নাহিদা বগেম বলেন, “সবাই বলে ওর বাইকের ফ্যাশিনেশন। কিন্তু ওর বাইকের ফ্যাশিনেশন ছিলো না। আমার নিজের বাসায়ও স্কুটি ছিলো। আমি কখনোই বাইক বা স্কুটি নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখিনি। বাইকের প্রতি আগ্রহটা সম্প্রতি তৈরি হয়েছে। কেউ তাকে প্রভাবিত করে তৈরি করেছে। হয় তো তাকে চড়িয়ে দেখিয়েছে বা কেউ ছবি তুলে দিয়েছে।”