ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: এবার সাড়া মিলবে তো?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 7 September, 2026, 9:55 PM

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: এবার সাড়া মিলবে তো?

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: এবার সাড়া মিলবে তো?

দেশে গ্যাস সংকটের কারণে চাপে পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাত। এই সংকট যখন তীব্র, তখন সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গভীর এবং অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান সফল হলে সংকট থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। তবে  ২০২৪ সালের অফশোর বিডিং ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও কি আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাবে, এমন সংশয়ও থেকেই যাচ্ছে। আর গ্যাস পেলেও তা গ্রিডে এনে ব্যবহার উপযোগী করতে কম করে আট বছর সময় লাগতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পেট্রোবাংলা।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে কমতে ১ হাজার ৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসায় এই প্রশ্নটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের আশাবাদ, এবার সাড়া মিলবে। তবে সেই আশার বাস্তব পরীক্ষা হবে ২৬টি অফশোর ব্লকের দরপত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলো কতটা অংশ নেয়, তার ওপরে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক টেন্ডারে এবার সাড়া পাওয়ার আশা রয়েছে। গত বছর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন এবং পিএসসির গ্যাসের দাম নিয়ে নানা জটিলতা ছিল। এবার সেগুলো কাটিয়ে ওঠা গেছে। ফলে আশা করা হচ্ছে বিডিং সফল হবে।

২৬ ব্লকে দরপত্র আহ্বান

চলতি বছরের মে মাসে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে ১১টি অগভীর এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েব বলেন, এখনও পর্যন্ত দুটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনেছে। এছাড়া সাতটি কোম্পানি তথ্য-প্যাকেজ সংগ্রহ করেছে। আমরা আশা করছি, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আরও অনেকেই আগ্রহ দেখাবে।

পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, দরপত্র কিনেছে তুর্কি পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি (টিপিএও) এবং চীনের বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন। এছাড়া বেরিংগিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, ক্রিসএনার্জি, পিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, অনোডা ইনকরপোরেটেড, রিস্ট্যাড এনার্জি, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং টিপিএও ডাটা কিনেছে।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, এবার বড় চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এর আগে ২০২৪ সালের অফশোর বিডিংয়ে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির (পিএসসি) শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। আবার রাজনৈতিক পটও পরিবর্তন হয়েছে। সে কারণে আমরা আশা করছি এবার সাড়া পাওয়া যাবে।

আগের যত ব্যর্থতা

২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা পায় বাংলাদেশ। কিন্তু ১২ বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেখানে অনুসন্ধানের কাজ শুরুই করতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ বাংলাদেশের পাশের অংশ থেকে মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস উত্তোলন করছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করা হয়। তখন মার্কিন কোম্পানি এক্সোন মবিলসহ ৭টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল, ২টি কোম্পানি পেট্রোবাংলা থেকে ডাটাও কিনেছিল। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা কারণে দরপত্র জমা দেয়নি কেউই। এ কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় বিডিং রাউন্ড-২০২৪। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার এই ব্যর্থতার কারণ উদঘাটন কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে উৎপাদন বণ্টন চুক্তিতে (পিএসসি) গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুডের ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে গভীর সমুদ্রে ১১ শতাংশ এবং অগভীরে সাড়ে ১০ শতাংশ করাসহ বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয় । এতে কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করে।

এর আগে ২০০৮ সালে দুটি ব্লকে কাজের জন্য আমেরিকান কোম্পানি কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কাজ না করে চলে যায়। এরপর ২০১২ সালে ভারতের ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেড দুটি ব্লকে চুক্তি সই করে। ২০১৭ সালে একটি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি পসকো দাইয়ুর সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। ২০২০ সালে ব্লক ফেলে চলে যায় পসকো দাইয়ু।

কমছে দেশীয় উৎপাদন

বর্তমানে প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ১৩০০ থেকে ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি আছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার হিসাবে মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২৩২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন থেকে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬২১ মিলিয়ন, আর এলএনজি থেকে এসেছে ৭০৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। একসময় দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস উৎপাদন হলেও এখন তা নেমে এসেছে ১৬২১ মিলিয়ন ঘনফুটে।

দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘‘ভোলা ছাড়া আমরা দীর্ঘদিন ধরে কোথাও বড় ধরনের গ্যাসের সন্ধান পাইনি। এখন আবার গ্যাস সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে অনুসন্ধানের বদলে আমদানির ওপর বেশি নির্ভর হয়ে পড়েছি আমরা।’’  তিনি বলেন, ‘‘পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমতে থাকায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।’’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্য

অফশোরে দরপত্র আহ্বানের দিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছিলেন, সমুদ্রসীমা বিজয় নিয়ে অতীতে অনেক আলোচনা হলেও বাস্তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হয়নি। যেসব এলাকা নিয়ে বিতর্ক ছিল, প্রতিবেশী দেশগুলো সেখানে গ্যাস উত্তোলন করছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বেশ কয়েকটি কোম্পানি বাংলাদেশের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সন-মবিল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এবার সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর সংসদেও জ্বালানি মন্ত্রী জানান, দরপত্র আহ্বানের পর আমরা এবার ভালো সাড়া পাবো বলে আশা করছি।

বিশেষজ্ঞের মত

স্থলভাগে কূপ খনন করেও বড় রিজার্ভ পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন বাড়ানো তো দূরের কথা, বর্তমান উৎপাদন অব্যাহত রাখাই কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের ভেতরে একমাত্র ভরসা হচ্ছে গভীর সমুদ্র। যত দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা যাবে, ততই মঙ্গল বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তবে সেখানে গ্যাস পেলেও আগামী আট থেকে ১০ বছরের মধ্যে ব্যবহারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। যে কারণে আগামী বছরগুলোতে গ্যাস সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘‘এখন যে পিএসসি করা হয়েছে, তাতে পেট্রোবাংলা শতভাগ আন্তর্জাতিক কোম্পানির স্বার্থই দেখেছে। ফলে এবার সাড়া না পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে এই চুক্তি যে পিএসসির অধীনে করা হবে, সেটির বিষয়ে সরকারের উচিত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। চুক্তির শর্তগুলো জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। তিনি বলেন, সাগরে পাওয়া গ্যাসের দাম যদি আমদানি করা গ্যাসের দামের সমান বা বেশি হয়—তাহলে সে গ্যাস উত্তোলন করে জনগণের কী লাভ হবে। বরং এখন আমদানি করা গ্যাসের কারণে বাড়তি দাম দিতে হয়, ফলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।


সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন 



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status