ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে কাজের ভিসায় বড় ধাক্কার শঙ্কা, বেশি বিপাকে পড়বেন যারা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 25 August, 2026, 12:30 PM

যুক্তরাষ্ট্রে কাজের ভিসায় বড় ধাক্কার শঙ্কা, বেশি বিপাকে পড়বেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রে কাজের ভিসায় বড় ধাক্কার শঙ্কা, বেশি বিপাকে পড়বেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রে কাজের স্বপ্ন দেখা বিদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন করে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে। এইচ-১বি ও এফ-১ অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচিতে নতুন ও বিপুল অঙ্কের ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আর এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যাওয়া বিদেশি কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাওয়া শিক্ষার্থী ও এইচ-১বি কর্মীদের স্পনসর করা নিয়োগকর্তা- সবার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয়দের ওপর, কারণ এইচ-১বি ভিসার সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারে উন্নীত করার একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) ফেডারেল রেজিস্টারে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। গত বছরও এ ধরনের একটি ফি আরোপ করা হয়েছিল, তবে পরে আদালতের আদেশে সেটি স্থগিত হয়ে যায়।

করপোরেট অভিবাসনসেবা প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের মতে, নতুন প্রস্তাবিত বিধিমালা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের কাজের ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পথে থাকা শিক্ষার্থী ও এইচ-১বি কর্মীদের স্পনসর করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।

এই পরিবর্তন ভারতীয়দের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার মোট সুবিধাভোগীর ৭০ শতাংশের বেশি ভারতীয়। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা ইউএসসিআইএস মোট ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪০২টি এইচ-১বি আবেদন অনুমোদন করে। এর মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুবিধাভোগীদের অংশ ছিল ৭১ শতাংশ।

ফ্র্যাগোমেন এক নোটে জানিয়েছে, প্রস্তাবগুলো এরই মধ্যে হোয়াইট হাউজের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের (ওএমবি) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির নোটে বলা হয়েছে, ওপিটি ফি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা ২০ আগস্ট ওএমবিতে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনাধীন। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট কিছু এইচ-১বি আবেদনের ওপর ফি আরোপসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ১৯ আগস্ট ওএমবির কাছে পাঠানো হয় এবং একই দিন পর্যালোচনা শেষে তা অনুমোদন পায়।

ফ্র্যাগোমেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএইচএস ওপিটি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব দিতে পারে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত এইচ-১বি ফি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি পিটিশন ফি নিয়ে চলমান মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। প্রশাসনের ওই ফি আগে আদালতে আটকে দেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো গোপন রাখা হয়েছে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো প্রকাশ করা হবে।

বেকার এইচ-১বি কর্মীরা হারাতে পারেন ৬০ দিনের সুযোগ

নতুন ফি আরোপের পরিকল্পনার পাশাপাশি চলতি মাসের শুরুতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয় ডিএইচএস। সংস্থাটি বেকার হয়ে পড়া এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব করেছে।

এই বিধি চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর এইচ-১বি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি খোঁজার জন্য যে ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়, তা আর থাকবে না। ফলে চাকরি হারানো কর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে, অন্যথায় তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত মর্যাদা বা স্ট্যাটাস লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হবে।

এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা চূড়ান্ত হলে, অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেসব কর্মীর চাকরি শেষ হয়ে যাবে, তাদের এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য বর্তমানে থাকা ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির তথ্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৫২ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করছেন। ফলে এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধি এবং চাকরি হারানোর পর ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ও সেখানে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনায় থাকা বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।


সূত্র: এনডিটিভি

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status