ডেটিং অ্যাপে পরিচয় থেকে বিয়ে, অভিনেত্রীর করুণ মৃত্যু, কী ঘটেছিল তৃষার জীবনে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 20 August, 2026, 3:29 PM
ডেটিং অ্যাপে পরিচয় থেকে বিয়ে, অভিনেত্রীর করুণ মৃত্যু, কী ঘটেছিল তৃষার জীবনে
একটি ডেটিং অ্যাপে পরিচয়। ধীরে ধীরে প্রেম। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে। নতুন সংসার নিয়ে স্বপ্ন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সেই গল্পের পরিণতি হলো মৃত্যুতে। তৃষা শর্মার মৃত্যু তাই এখন শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়; বরং তদন্ত, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নানা প্রশ্নে ঘেরা এক রহস্য।
তৃষা ছিলেন মডেল, অভিনেত্রী ও করপোরেট পেশাজীবী। ২০১২ সালে ‘মিস পুনে’ খেতাব জিতেছিলেন। এমবিএ করার পর করপোরেট দুনিয়ায় কাজের পাশাপাশি মডেলিং ও অভিনয়েও যুক্ত ছিলেন। জীবন নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা ছিল অনেক। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিয়ের মাত্র কয়েক মাস পর, ২০২৬ সালের ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হলেও খুব দ্রুতই বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নেয়। তৃষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল, ছিল যৌতুকের চাপও। অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে উঠে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য। তৃষার মানসিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সমস্যা ও চিকিৎসা নিয়ে নানা দাবি করা হয়। দুই পক্ষের এই দুই রকম বক্তব্যের মধ্যেই রয়েছে তৃষার জীবনের শেষ কয়েক মাস।
স্বপ্ন ছিল অনেক তৃষা শর্মার গল্প শুরু হয় মৃত্যু দিয়ে নয়; বরং নানা স্বপ্ন নিয়ে। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি এমবিএ করেন। করপোরেট চাকরি করেছেন। পাশাপাশি মডেলিং ও অভিনয়ের জগতেও নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। ২০১২ সালে ‘মিস পুনে’ হওয়ার পর তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে। পরবর্তী সময়ে অভিনয়েও কাজ করেন। অর্থাৎ তৃষার জীবন ছিল একেবারে একমুখী নয়। একদিকে চাকরি, অন্যদিকে বিনোদনজগতের কাজ—দুই দিকই সামলাচ্ছিলেন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের জীবন নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনা ছিল। বিয়ের পরও সেই জীবন আরও সুন্দর হবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই প্রত্যাশা ভেঙে যায়।
ডেটিং অ্যাপে পরিচয় ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তৃষার পরিচয় হয় সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে। পেশায় আইনজীবী সমর্থ তখন ভোপালে কাজ করতেন। আজকের সময়ে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া আর অস্বাভাবিক কিছু নয়। অচেনা দুজন মানুষের মধ্যে অনলাইনে কথাবার্তা, সেখান থেকে বন্ধুত্ব, পরে প্রেম—এভাবেই অনেক সম্পর্কের শুরু।
তৃষা ও সমর্থের ক্ষেত্রেও শুরুটা ছিল তেমনই। পরিচয় ধীরে ধীরে সম্পর্কে গড়ায়। একসময় দুই পরিবারও এই সম্পর্ক মেনে নেয়। তারপর আসে বিয়ের সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই তৃষার জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক মাস পর সেই সংসারই তাঁর মৃত্যুর কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
বিয়ের পর বদলে গেল সব? তৃষার পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তাঁর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তায় তৃষা নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে তাঁর কিছু বার্তা ও কথোপকথনও পরে আলোচনায় আসে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃষা জানিয়েছিলেন যে তিনি স্বামীর বাড়িতে ভালো নেই। কখনো স্বামীর সঙ্গে কথা না বলার অভিযোগ, কখনো তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ—এসব বিষয় সামনে এসেছে।
একপর্যায়ে তিনি নাকি মাকে বলেছিলেন, তাঁকে ভোপাল থেকে নিয়ে যেতে। তৃষার পরিবার দাবি করেছে, তাঁরা মেয়েকে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও করছিলেন। কিন্তু সেই সময় আর আসেনি।
১২ মে: যেদিন সব বদলে গেল ১২ মে তৃষার মৃত্যুর খবর আসে। ভোপালে শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একজন তরুণীর জীবন, যিনি কয়েক মাস আগেই বিয়ের মাধ্যমে নতুন সংসারে পা রেখেছিলেন, এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। কী হয়েছিল সেদিন?
ঘটনার আগে তৃষা কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন? তাঁর ফোনে কী ছিল? তিনি কি কোনো বার্তা লিখেছিলেন? বাড়িতে তখন কারা ছিলেন? ঘটনার পর কে প্রথম তাঁকে দেখতে পান? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এটি কি আত্মহত্যা, নাকি মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা ছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগোতে থাকে।
পরিবারের অভিযোগ তৃষার পরিবার শুরু থেকেই ঘটনাটিকে নিছক আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নেয়নি। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বিয়ের পর তৃষাকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। যৌতুকের দাবির কথাও তাঁরা বলেন। পরিবারের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, তৃষা তাঁর সমস্যার কথা তাঁদের জানিয়েছিলেন। তিনি স্বামীর বাড়িতে থাকতে চাইছিলেন না—এমন কথাও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়।
একজন মেয়ে যদি নিজের মা-বাবাকে বারবার নিজের সংসার নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান, তাহলে সেই কথাগুলোর গুরুত্ব কতটা, তদন্তের ক্ষেত্রে সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে ওঠে। তবে পরিবারের অভিযোগ আর আদালতে প্রমাণিত সত্য, এক বিষয় নয়। অভিযোগের প্রতিটি অংশই তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
শ্বশুরবাড়ির বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা তৃষার পরিবারের অভিযোগের বিপরীতে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকেও নানা বক্তব্য আসে। তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিং ছিলেন সাবেক জেলা বিচারক। তিনি তৃষার মানসিক ও ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তৃষার চিকিৎসা, ওষুধ সেবনসহ নানা বিষয় নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
অর্থাৎ এক পক্ষ বলছে, তৃষা দাম্পত্য নির্যাতনের চাপে ছিলেন। অন্য পক্ষ বলছে, তাঁর ব্যক্তিগত ও মানসিক সমস্যাই পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সত্য, অথবা সত্যের কতটা অংশ কোন বক্তব্যে রয়েছে, সেটিই তদন্তের বিষয়। কারণ, একটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে একা সত্য ধরে নিলে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে থেকে যেতে পারে।
ময়নাতদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তৃষার মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত হয়। প্রথম ময়নাতদন্তের ফল নিয়েও তাঁর পরিবার সন্তুষ্ট ছিল না। তাঁদের দাবি ছিল, তৃষার শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মৃত্যুর প্রকৃতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবি ওঠে। পরে এআইআইএমএস দিল্লির মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়।
ফরেনসিক তদন্তে গলার আঘাত ও ব্যবহৃত লিগেচার বা বাঁধার উপকরণের মধ্যে সামঞ্জস্যের বিষয়টি সামনে আসে।
তবে এখানেও সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো একটি ফরেনসিক তথ্য একাই পুরো মৃত্যুর রহস্যের সমাধান করে না। ঘটনাস্থলের তথ্য, ময়নাতদন্ত, ডিএনএ বা অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণ, ডিজিটাল তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য—সবকিছু একসঙ্গে বিচার করেই তদন্তকারীদের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।
সিসিটিভিতে কী দেখা গিয়েছিল? তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে সিসিটিভি ফুটেজ। ঘটনার দিনের কিছু ফুটেজে তৃষাকে বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে ওপরে যেতে দেখা যায় বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য সামনে আসে। পরে তাঁর স্বামীসহ কয়েকজনকে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনতে দেখা যায় বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ মানেই পুরো ঘটনার সম্পূর্ণ ছবি নয়। ভিডিওর আগে কী হয়েছিল, মাঝখানে কী ঘটেছিল এবং ক্যামেরার আওতার বাইরে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্তকারীদের জন্য শুধু ফুটেজ দেখা নয়, ফুটেজের সময়, ঘটনাপ্রবাহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়ে।
স্বামীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৃষার মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী সমর্থ সিংকে ঘিরেও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়। কিছু সময় তিনি পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন বলেও আলোচনা হয়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা আর আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া, এক নয়। একইভাবে তদন্তে কারও আচরণ সন্দেহ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেটিই চূড়ান্ত অপরাধের প্রমাণ নয়। এই কারণেই মামলাটিতে তদন্তের প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কেন সিবিআই তদন্ত? মামলাটি যখন আরও জটিল হয়ে ওঠে, তখন তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তৃষার শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বিচারব্যবস্থার সম্পর্ক এবং তাঁর স্বামীর আইনজীবী পরিচয়কে কেন্দ্র করে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও মামলাটিতে নজর দেন। শেষ পর্যন্ত সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়। এটি ছিল তদন্তের বড় মোড়।
স্থানীয় তদন্ত থেকে জাতীয় পর্যায়ের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে চলে যায় মামলাটি। এরপর একে একে ডিজিটাল ডিভাইস, ফোন যোগাযোগ, ফরেনসিক প্রমাণ, ভয়েস স্যাম্পল এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়।
ফোনই কি খুলবে রহস্য? তৃষার মৃত্যুর তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্রমাণ। কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কখন ফোন করেছেন, কী বার্তা পাঠিয়েছেন, কী ছবি বা ভিডিও রেখেছেন—এসব তথ্য কখনো কখনো একটি মৃত্যুর আগের কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের পুরো চিত্র বদলে দিতে পারে।
তৃষার ক্ষেত্রেও ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য তাই গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারীরা তাঁর স্বামীর যোগাযোগের তথ্যও খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার আগে ও পরে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল—এসবও তদন্তের অংশ।
এমনকি ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মৃত্যুর আগে কী ভাবছিলেন তৃষা? মৃত্যুর দিন, ১২ মে সকালেই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তৃষা। তিনি মায়ের কাছে তিন হাজার রুপি চান, যাতে রাজস্থানের নাসিরাবাদের ট্রেনের টিকিট কাটতে পারেন। বাবা সেই টাকা পাঠিয়ে দেন এবং তিনি টিকিটও কেটে ফেলেন।
এরপর সমর্থ দাম্পত্য পরামর্শে (কাপল কাউন্সেলিং) যেতে রাজি হন। দুজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কাকলি রায়ের সঙ্গে দেখা করেন। অভিযোগপত্রে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সমর্থকে ধৈর্য ধরে স্ত্রীর কথা শোনার পরামর্শ দেন এবং দুজনকেই মাদক ব্যবহার বন্ধ করতে বলেন।
সেদিন বিকেলে তৃষা একটি বিউটি পারলারে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখেন, সমর্থ ও গিরিবালা বাইরে হাঁটছেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে চাইলে তাঁরা তাঁকে উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ।
এরপর মাকে ফোন করে তৃষা জানান, এই সম্পর্ক আর বাঁচানো সম্ভব নয়। তিনি চিরতরে ভোপাল ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ভাবি রাশি আবরোলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তৃষা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জানান, পিঠে ব্যথা থাকায় স্বামীকে ঘরে ঘুমাতে বলেছিলেন। কিন্তু সমর্থ নাকি উল্টো আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। রাত ৯টা ৩৬ মিনিটে আসে সেই শেষ বার্তা, ‘এখন আমাকে শান্তিতে মরতে দাও।’
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তৃষা একা ছাদে ওঠেন। এক মিনিট পর বাবাকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সমর্থ খুব আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন, তিনি ভয় পাচ্ছেন এবং বাবা-মাকে দ্রুত আসতে বলেন। রাত ১০টা ৫ মিনিটে তৃষা মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। এরপর মা বারবার ফোন করলেও আর যোগাযোগ হয়নি। পরে শাশুড়িকে ফোন করে মেয়ে কাঁদছে বলে খোঁজ নিতে অনুরোধ করেন।
সিসিটিভিতে দেখা যায়, রাত ১০টা ২৩ মিনিটে গিরিবালা ও পরে সমর্থ ছাদের দিকে যান। কিছুক্ষণ পর তৃষাকে নিচে নামিয়ে ভোপালের এইমসে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ মামলায় প্রথম থেকেই নানা বিতর্ক ছিল। পরিবারের অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়। দিল্লি এইমসের বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃষার মৃত্যু ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ফলেই হয়েছে। শরীরে হামলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ সিবিআইয়ের অভিযোগ হত্যা নয়; বরং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণ তৃষাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করেছে। ফরেনসিক মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, তৃষা দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক নির্যাতন, হতাশা ও একাকিত্বের মধ্যে ছিলেন। পর্যাপ্ত মানসিক সমর্থনের অভাব তাঁকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে সমর্থ সিং ও গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে সিবিআই। তবে তদন্ত এখানেই শেষ নয়। তৃষার আইফোনের ফরেনসিক তথ্য এখনো বিশ্লেষণাধীন। বাড়ির সিসিটিভি রেকর্ডারের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেটিও পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পণ-সংক্রান্ত অভিযোগের দিকটিও আলাদাভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সিবিআই।