ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬ ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, সাংবাদিককে রামদার কোপ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 15 August, 2026, 4:37 PM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 15 August, 2026, 4:40 PM

গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, সাংবাদিককে রামদার কোপ

গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, সাংবাদিককে রামদার কোপ

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে রামদার কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল। বৃহস্পতিবার সকালে ফকির মার্কেটসংলগ্ন ইন্ডেসরি পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শরীফ ওমর টুটুল প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি। তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মাথার ক্ষতস্থানে চিকিৎসা ও সেলাই দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। ঘটনার দিন সকাল থেকে হামিদ মণ্ডলের ছেলে সোহেলের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কারখানার আশপাশে অবস্থান করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতেই অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হচ্ছিল বলেও স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন।

পরিস্থিতির খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। একপর্যায়ে টুটুল রাস্তার অপর পাশে অবস্থানরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তার ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ।

আহত সাংবাদিক টুটুল বলেন, হামিদ মণ্ডলের লোকজনের কাছে পরিস্থিতি জানতে গেলে পেছন থেকে তার মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এ সময় তিনি স্থানীয় সেলিমের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হামলার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

টুটুল হামিদ মণ্ডল, তার ছেলে সোহেলসহ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, সাংবাদিককে রামদার কোপ

গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা, সাংবাদিককে রামদার কোপ

এদিকে ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট কালাম। তার ভাষ্য, তারা ধাওয়া খেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। ওই সময়ের মধ্যেই সাংবাদিক টুটুলকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দূর্জয় জানান, আঘাতে টুটুলের মাথার কয়েকটি স্তর কেটে গেছে। ক্ষতস্থানে প্রায় ১৫-১৬টি সেলাই করা হয়েছে। সিটি স্ক্যানের পর আঘাতের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, আহত সাংবাদিকের চিকিৎসা গুরুত্বের সঙ্গে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে প্রতিদিনের কাগজ-এর বিশেষ প্রতিনিধি মো. আখতার হোসেন হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ঘটনার বিষয়ে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানি জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তদন্তের জন্য এসআই নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। হামলার কোনো ভিডিও ফুটেজ বা ছবি থাকলে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো পুলিশকে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কারখানাটির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট কারখানাটির ঝুট সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে হামিদ মণ্ডলের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কারখানাটির ঝুট ব্যবসা কারা নিয়ন্ত্রণ করছে, কারা এর সুবিধাভোগী এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার সঙ্গে ঝুট ব্যবসার বিরোধের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন পুলিশের তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সাংবাদিকদের ধারণ করা ছবি ও ভিডিও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে হামিদ মণ্ডল ও তার ছেলে সোহেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও হামিদ মণ্ডল ফোন রিসিভ করেননি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গাজীপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার বলেন, “সাংবাদিকের ওপর মারাত্মক আঘাতের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।”

এখন পুলিশের তদন্তেই বেরিয়ে আসার অপেক্ষা—সাংবাদিকের ওপর হামলায় কারা জড়িত, হামলার নেপথ্যে কী ছিল এবং কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে এই হামলার কতটা সম্পর্ক রয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status