ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলিকে বেছে নেওয়ার কারণ কী? যা বলছে জামায়াত জোট
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 10 August, 2026, 7:20 PM

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলিকে বেছে নেওয়ার কারণ কী? যা বলছে জামায়াত জোট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলিকে বেছে নেওয়ার কারণ কী? যা বলছে জামায়াত জোট

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর নিশ্চিত জয় জেনেও জামায়াত জোট কেন প্রার্থী দিচ্ছে তার ব্যাখ্যা দিলেন সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। আর প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদকে বেছে নেওয়ার যুক্তিও তুলে ধরেছেন তিনি।

সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনি কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে অলি আহমদের জন্য জোটের তরফে মনোনয়ন ফরম নেওয়া হয়।

এরপর নির্বাচন ভবনের তৃতীয় তলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

এক সাংবাদিক জানতে চান, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয় তো নিশ্চিত, এর পরও ১১ দলীয় ঐক্য কেন প্রার্থী দিচ্ছে?

জবাবে জোট সমন্বয়ক আযাদ বলেন, “এখানে জয়-পরাজয়টি বিষয় না; আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ বলা আছে, রাষ্ট্রের সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা…এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদমর্যাদা সম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ।

“এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চাই। দেশকে পরিচালনা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।”

নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরার পর আটবারের মধ্যে সাতবারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী। কেবল ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি হয়।

ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আর বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও সমমনারা বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে আরেকজন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে প্রত্যাহার করেন তিনি।

নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাবনার জায়গা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল বলে মনে করেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, “এবার হয়তো বলতে পারেন সেই সম্ভাবনাটা তো নেই। অর্থাৎ একানব্বইয়ে ভোটার সংখ্যার হিসাব-নিকাশে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি ছিল না। আমরা সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সেইবার সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম।

“সেখানে সব দল বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের প্রার্থী পরাজিত হতো। সেই সম্ভাবনা থেকে একানব্বইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।”

এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা না থাকলেও জামায়াতের জোটের মনোনয়ন সংগ্রহ করার কারণ ব্যাখ্যায় হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিএনপির রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতাটা করেছে, সেটা জাতির সামনে আনতে চাই। গণভোটের রায়টা, জনগণের রায়টা বিএনপি বাস্তবায়ন করে নাই।

“সেটা বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মধ্যেই চলে আসত। এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে তাদের ভোটাধিকার দিয়ে তার অধিকারের ওপর আপনি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে গেছেন। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি।”

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা কোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে বা ‘ফ্লোর ক্রস’ করতে পারেন না।

ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি—

(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা

(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,

তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।”

এই অনুচ্ছেদের কারণে জাতীয় সংসদেই পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ থাকছে না বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। সে কারণে সংবিধান থেকে ৭০ অনুচ্ছেদ বাদ দেওয়ার দাবি বহু পুরনো।

জামায়াত জোটের সমন্বয়ক আযাদ বলেন, “সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা, ভোটাধিকার যে নিয়ন্ত্রিত, সেই জায়গাটাকে মুক্ত করতে চেয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলনটা ঘটত।”

নির্বাচনি ইশতেহারে ৭০ অনুচ্ছেদের আংশিক পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি, যদিও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের ইশতেহারে অর্থ বিল, সংবিধান সংশোধনী বিল, আস্থা ভোট এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিল ছাড়া অন্য যে কোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

হামিদুর আযাদ বলেন, “এ রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে যে বাধা, মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে— এটাকে আমরা উঠিয়ে দিতে চাই। এজন্য আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। সংসদেও বলেছি, সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

“এখানে সংসদ সদস্যগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি ভোট দিতে পারতেন, আমাদের প্রার্থী দিয়েছি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা একটা যোগ্য প্রার্থী এখানে পেত। তার প্যারালাল কোনো প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসত না।”

এর আগে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যর তরফে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়।

সংসদে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে জামায়াত জোটের এ প্রার্থী জয়ী হতেন বলে নির্বাচন ভবনে মন্তব্য করেন আযাদ।

তিনি বলেন, “যদি সংস্কার হতো অলি সাহেব নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি আজকে নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনাটা সমুজ্জ্বল ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য।

“আমরা সেই জায়গাটা বিএনপির দ্বিচারিতার কারণে অথবা তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হল।”

এদিন বেলা ১১ টার পরে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ইসিতে আসেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন, কামাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত, বাছাই হবে ১৬ অগাস্ট। আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ অগাস্ট, ভোট হবে ২০ অগাস্ট।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status