ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করলে হতাশ না হয়ে যা করা উচিৎ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 10 August, 2026, 12:46 PM

পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করলে হতাশ না হয়ে যা করা উচিৎ

পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করলে হতাশ না হয়ে যা করা উচিৎ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে আনন্দ আর উল্লাসের পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীর মনেই নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় বেশ কম। পরীক্ষায় পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। তবে এর বিপরীতে অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।

আমাদের দেশে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বা আশানুরূপ ফল না করার কারণে অনেক শিক্ষার্থী মারাত্মক মানসিক অবসাদে ভোগে। প্রতি বছরই ফল প্রকাশের পর আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ও চরম পথ বেছে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানীরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, একটি পরীক্ষার ফল কখনোই কারও জীবনের চূড়ান্ত যোগ্যতা বা শক্তি-দুর্বলতা নির্ধারণ করতে পারে না। এটি সামগ্রিক শিক্ষাজীবনের একটি ছোট্ট অংশ মাত্র।

কেন এই বিপর্যয় এবং ভ্রান্ত ধারণা?

শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—অনিয়মিত পড়াশোনা, পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে প্রস্তুতি নেওয়া, কিংবা শারীরিক অসুস্থতা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ।

সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যে, অকৃতকার্য হওয়া মানেই একজন শিক্ষার্থী অযোগ্য বা মেধাহীন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রকৃত অর্থ হলো—শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পদ্ধতিটি হয়তো সঠিক ছিল না। এই নেতিবাচক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনা অত্যন্ত জরুরি।

হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায়

মানসিক চাপ সামলে পুনরায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন:

আবেগ সামলে নেওয়া: মন খারাপ হওয়া বা হতাশ লাগা খুবই স্বাভাবিক। নিজের আবেগকে জোর করে চেপে না রেখে, তা প্রকাশ করার জন্য নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত।

ভুল থেকে শিক্ষা: আগের ফল এড়িয়ে না গিয়ে নিজের ভুলগুলো মূল্যায়ন করতে হবে। সিলেবাস অসম্পূর্ণ থাকা বা পর্যাপ্ত মডেল টেস্ট না দেওয়াই হয়তো এর কারণ। ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ না করে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান: কোনো একটি বিষয়ে 'আমি খারাপ'—এ কথাটি মেনে না নিয়ে, ঠিক কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে।

মানসিক চাপ কমানো: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা প্রস্তুতি নষ্ট করে দিতে পারে। ধ্যান (মেডিটেশন), যোগব্যায়াম বা প্রশান্তিদায়ক গান শোনার মাধ্যমে মন শান্ত রাখা যেতে পারে।

সহযোগিতা নেওয়া: সব চাপ একা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শিক্ষক, অভিভাবক, বড় ভাইবোন বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বললে মানসিক ভার অনেকটা কমে যায়।

আগামী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া

পড়াশোনায় নতুন করে মনোযোগ ফেরাতে এবং আগামী পরীক্ষার জন্য একটি শক্ত প্রস্তুতি নিতে শিক্ষার্থীরা কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রথমত, একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পড়ার রুটিন তৈরি করতে হবে। যে বিষয়গুলোতে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি বা দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশি সময় দিতে হবে।

মূল পাঠ্যবই গভীরভাবে পড়ার পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান এবং ঘড়ি ধরে মডেল টেস্ট দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে যেমন লেখার গতি বাড়বে, তেমনি পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং ভীতি দূর হবে।

টানা পড়াশোনা না করে মাঝে মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। পড়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিক প্রস্তুতিই আগামীতে ভালো ফলাফল বয়ে আনবে।

শেষ কথা

পরীক্ষায় ফেল করা মানেই জীবনের শেষ নয়; বরং এটি বিষয়বস্তু আরও ভালোভাবে বুঝে নিজের ভিত্তি মজবুত করার একটি চমৎকার সুযোগ। সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকরী কৌশল এবং পরিবারের ইতিবাচক সমর্থন থাকলে যেকোনো ব্যর্থতাকেই সাফল্যের সিঁড়িতে পরিণত করা সম্ভব। জীবনের এই দৌড়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ানোই হলো আসল জয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status