|
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ ভারতীয় দূত ত্রিবেদীর
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ ভারতীয় দূত ত্রিবেদীর সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তাদের সাক্ষাত হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান। তিনি বলেন, “এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামতের এক সন্ধিক্ষণে গত ১২ জুন ভারতের হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ত্রিবেদীকে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে কূটনৈতিক দায়িত্বে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে দিল্লি। গত ২৫ জুন তিনি বাংলাদেশের তখনকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরু করেন। সেদিন পরিচয়পত্র পেশের পরপরই ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শনে গিয়ে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকা পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেন নতুন হাই কমিশনার। গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ত্রিবেদী। দুই দেশের জনগণের যাতে মঙ্গল হয়, সেভাবেই তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেদিন তিনি বলেছিলেন, “এমন কোনো সমস্যা নাই, যেটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে সমাধান করা যাবে না।” চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘোচানোর জন্য পোড় খাওয়া রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসের সেরা কর্মকর্তাদের ঢাকা মিশনে পদায়নের যে ধারা, সেখান থেকে সরে এসে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী এই রাজনীতিককে পাঠানো ‘কূটনীতির সুর ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে নতুন বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়’। পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা বলতে পারেন এবং দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন। সেতারবাদক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ ত্রিবেদী হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন। প্রবীণ এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। আশির দশকে ছিলেন কংগ্রেস নেতা। পরে ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনিই দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক। ২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। পরে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ, কিন্তু সেবার বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। কিছুদিন পর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশের। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
