|
কাশিয়ানীতে স্কুলে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অপমানে ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() কাশিয়ানীতে স্কুলে ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অপমানে ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা গত ২৮ জুলাই (সোমবার) দুপুরে উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন পৈশাচিক ঘটনা ঘটলেও তিন দিন পার হয়ে গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বরইভিটা গ্রামে, সে মুকসুদপুর উপজেলার ধর্মরায়ের বাড়ি গ্রামে নানা স্বপন মজুমদারের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। অপর ভুক্তভোগী যুবক রাহুথড় গ্রামের শিবনাথ বাড়ৈর ছেলে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই স্কুল চলাকালে ওই ছাত্রীকে রাহুথড় বড় ব্রিজ থেকে ধরে এবং ওই যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে দুজনকে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার, স্থানীয় যুবক জয় শিকদার ও মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অপমান ও লোকলজ্জায় ওই স্কুলছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অভিযোগের বিষয়ে নয়ন গোলদার জানান, তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার যুবকরা আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের দুইজনকে স্কুলে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেই। তবে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঘটনার দিন স্কুলে ছিলাম না, পরে ঘটনাটি শুনেছি। স্কুলের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি বাড়িতে ফিরলে তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
