|
কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে চার গ্রামের মানুষ
এফ কে আশিক, ভূরুঙ্গামারী
|
![]() কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে চার গ্রামের মানুষ স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের সতিপুরী মৌজায় প্রায় ৩০ বছর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি প্রকৌশল প্রকল্পের আওতায় একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ভেতরে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি, চারটি গ্রাম, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধের পশ্চিম পাশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে স্থানীয় দুই ভাই সোনাউল্লাহ ও আমান উল্লাহ বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে সতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের মাঠ ও সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ছড়ারপাড় গ্রামের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ছড়ারপাড়, উত্তর সতিপুরী, দক্ষিণ সতিপুরী ও ব্যাপারীটারী গ্রামের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকের বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকে পড়েছে। কেউ কেউ কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করছেন। পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে সুপারি ও অন্যান্য গাছপালা। অনেক বাড়ির স্যানিটেশন ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন পানি থাকলে আমন চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। একটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাইদ বলেন, কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করায় চারটি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। কয়েক হাজার বিঘা জমি পানির নিচে থাকায় এবার আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কৃষক ওসমান গনি বলেন, তাঁর বাগানের সুপারিসহ বিভিন্ন গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমনের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমিতে পানি থাকায় চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মমেনা বেগম বলেন, বাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। টয়লেট ডুবে থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে আমান উল্লাহ বলেন, অন্য কোথাও জমি না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি ও তাঁর ভাই সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার জন্য বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
