ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ৮ জুলাই ২০২৬ ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
২০০ থেকে ৬০০ টাকায় দাওয়াতে পরার গয়না পাওয়া যাবে যেখানে
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 8 July, 2026, 10:55 AM
সর্বশেষ আপডেট: Wednesday, 8 July, 2026, 11:21 AM

২০০ থেকে ৬০০ টাকায় দাওয়াতে পরার গয়না পাওয়া যাবে যেখানে

২০০ থেকে ৬০০ টাকায় দাওয়াতে পরার গয়না পাওয়া যাবে যেখানে

সব মিলে জায়গাটা বড়জোর ১০০ ফুট লম্বা। দুই পাশে সারি সারি ছোট দোকান। দোকানগুলোয় নানা ধরনের গয়না, মাঝখানে সরু ফুটপাত। সেই পথেই ক্রেতারা ধীর পায়ে হাঁটছেন, থেমে থেমে দেখছেন, পছন্দ হলে কিছু কিনছেন, আবার এগিয়ে যাচ্ছেন।

বলছি উত্তরা রাজলক্ষ্মী মার্কেটের পাশের ফুটপাতজুড়ে বসা গয়নার দোকানগুলোর কথা। কম দামে পাওয়া যায় বলে এই জায়গার আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জমজমাট থাকে এই অস্থায়ী বাজার।

দোকানগুলোর সামনে ঝুলছে নানা ধরনের কানের দুল। অক্সিডাইজ রুপার বড় ঝুমকা, ছোট স্টাড, মুক্তা বসানো ড্রপ ইয়াররিং, আবার কোথাও জ্যামিতিক নকশার মেটাল দুল; আছে রঙিন পুঁতির মালা, টেরাকোটা পেনড্যান্ট ও সাদা পাথর দিয়ে বানানো চোকার। ধাতব চুড়ির পাশাপাশি আছে রেজিনের মোটা বালা, কাপড় মোড়ানো চুড়ি ও নানা ধরনের আংটি।

দাম কিন্তু নাগালের মধ্যেই। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে পরার উপযোগী গয়নার সেট। রুপা ও অক্সিডাইজ ফিনিশিংয়ের এসব গয়নায় মিনাকারি, পাথর ও কৃত্রিম মুক্তার কাজ দেখা যায়।

২০০ থেকে ৬০০ টাকায় মিলবে বিভিন্ন ডিজাইনের মালা, শাড়ি বা পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে যা সহজেই মানিয়ে যাবে। কানের দুলের ক্ষেত্রে ছোট টপ থেকে বড় ঝুমকা—সবই পাওয়া যাবে, দাম ৫০ থেকে ৩৫০ টাকা।

হালকা নকশার পাশাপাশি বড় পাথরের স্টেটমেন্ট দুলও রয়েছে, যেগুলোয় একাধিক রঙের পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। আংটির দাম পড়বে ৫০ থেকে ২০০ টাকা, আর ব্রেসলেট পাওয়া যাবে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

চুড়ির ক্ষেত্রেও আছে নানা বৈচিত্র্য। কাচ, মেটাল কিংবা অ্যান্টিকের চুড়ি পাওয়া যায় ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়। এক ডজন কাশ্মীরি চুড়ির দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, ঘুঙুর যোগ করলে বাড়তি খরচ পড়বে প্রায় ১৫০ টাকা।

পাশাপাশি হওয়ায় এক দোকান থেকে আরেক দোকানে সহজেই যাওয়া যায়। অনেকেই একবারে কেনার বদলে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখেন, তুলনা করেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেন।

কেউ কোনো দুল কানে ধরে আয়নায় মিলিয়ে দেখছেন, কেউ আবার শাড়ির সঙ্গে মানাবে কি না, তা ভাবছেন। বিক্রেতারাও ধৈর্য নিয়ে একের পর এক পণ্য দেখাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে নতুন ডিজাইন এগিয়ে দিয়ে বলছেন, এটা এখন খুব চলে।

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মিথিলা বন্ধুর সঙ্গে এসেছেন। হাতে কয়েক জোড়া দুল নিয়ে বললেন, এক জায়গায় এত অপশন, তাই আগে দেখে নিচ্ছি। আগে দেখা যেত পছন্দ হলেই কিনে ফেলতাম, কিন্তু এখন একটু মিলিয়ে দেখি।

তাঁর বন্ধু আদৃতা যোগ করলেন, অনেক সময় এমনও হয়েছে, প্রথম দোকানির চাওয়া দামের অর্ধেকে গয়না কিনেছি। তাই গয়না বুঝে দরদাম করা জরুরি। কারণ, একই জিনিস আরও কম দামে কেনা সম্ভব।

বিক্রেতাদের কথায়ও একই সুর। গত বছর থেকে এখানে দোকান চালাচ্ছেন রাকিব হাসান। তিনি বলেন, ভিড় আছে, কিন্তু আগের মতো হুট করে কেনে কম। বেশির ভাগই দেখে যায়, তারপর ঘুরে এসে নেয়।

এই বাজারের ক্রেতাদের বড় একটি অংশ তরুণী। চলতি ধারার নকশা ও তুলনামূলক কম দাম—এই দুই কারণে তাঁদের আগ্রহ বেশি। অনেকে দুল, হার ও বালা মিলিয়ে সেট হিসেবে কিনছেন।

আবার কেউ কেউ শুধু নতুন কী এসেছে, সেটা দেখতে আসেন। জায়গা ছোট হওয়ায় বিকেলের দিকে ভিড়টা একটু বেশি বোঝা যায়। তবু সেই ভিড়ের মধ্যেই চলে বাছাই, দরদাম ও নিজের মতো করে কিছু খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status