|
ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’: ৪০ বছর পর এক প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিচারণ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’: ৪০ বছর পর এক প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিচারণ গ্যালারির উত্তেজনা ও হ্যান্ড অফ গড বিতর্ক ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের ভেতরের পরিবেশ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ এবং উৎসবমুখর। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘটে ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় ঘটনা। ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সের ওপর দিয়ে উড়ে আসা একটি বলের দখল নিতে আর্জেন্টিনার তারকা দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটন একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠেন। শিলটন বলটি পাঞ্চ করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ম্যারাডোনার হাত স্পর্শ করে বলটি জালে জড়িয়ে যায়। রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় গোলটির অনুমোদন দেন, যা ইংরেজ সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে এই গোলটি বিশ্বজুড়ে ‘হ্যান্ড অফ গড’ বা ঈশ্বরের হাত নামে পরিচিতি লাভ করে। স্বয়ং ম্যারাডোনা রসিকতা করে বলেছিলেন, গোলটি হয়েছিল কিছুটা আমার মাথায় আর কিছুটা ঈশ্বরের হাতে। চার মিনিট পর শতাব্দীর সেরা গোল প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, ঠিক চার মিনিট পর ম্যারাডোনা উপহার দেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দর্শনীয় গোলটি, যা প্রথম গোলের সমস্ত বিতর্ককে ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ করে দিয়েছিল। নিজের অর্ধে বল পেয়ে একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তীব্র গতিতে বক্সের ভেতর ঢুকে ম্যারাডোনা বল জালে জড়ান। লর্ডস হেরেডিয়া সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ম্যাচের প্রথম গোলটি নিয়ে গ্যালারিতে যখন তুমুল বিতর্ক চলছিল, ঠিক তখনই ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলটি পুরো স্টেডিয়ামকে নিস্তব্ধ করে দেয়। গোলটি এতই নিখুঁত ও অসাধারণ ছিল যে স্টেডিয়ামের সবাই, এমনকি ইংল্যান্ডের কিছু সমর্থকও তা উদযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। ওই মুহূর্তেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, মানুষ কেন ফুটবলকে এত ভালোবাসে। সম্মিলিত স্মৃতিতে অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিলেও মেক্সিকানদের কাছে এই ম্যাচটি ছিল তাদের জাতীয় গর্ব এবং আতিথেয়তার এক অনন্য প্রদর্শন। ১৯৮৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মেক্সিকো সিটি যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, তখন এই অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামই ছিল বহু গৃহহীন মানুষের আশ্রয়স্থল। হেরেডিয়া উল্লেখ করেন, ফুটবল তাঁর প্রিয় খেলা না হলেও, সেই দিনের উষ্ণতা, মেক্সিকান সংস্কৃতির প্রাণচাঞ্চল্য এবং ফুটবল ইতিহাসের সেরা জাদুকরী মুহূর্তটি গ্যালারিতে বসে দেখার অনুভূতি তাঁর স্মৃতিতে চিরকাল অম্লান থাকবে। সূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
