|
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সক্রিয়তার দাবি ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের, মেলেনি কোনো প্রমাণ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত রিউভেন আজার। ছবি: সংগৃহীত নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিক রিউভেন আজার অভিযোগ করেছেন যে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তার করছে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামাসের নজিরবিহীন অভিযানের পর থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের ওপর কড়া নজর রাখছে তেল আবিব। যদিও গাজায় নৃশংস নিধনযজ্ঞ চালানোর দায়ে অভিযুক্ত দেশটির এই কূটনীতিক তার এমন চাঞ্চল্যকর দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা দালিলিক প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। এনডিটিভির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কাউলের মুখোমুখি হয়ে রিউভেন আজার আঞ্চলিক রাজনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এবং একই সঙ্গে উগ্রবাদ দমনে পাকিস্তানের সদিচ্ছাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে পাকিস্তানের ভূমিকা পালনের উদ্যোগের দিকে ইঙ্গিত করে আজার স্পষ্ট জানান, তেল আবিব ইসলামাবাদকে বিন্দুমাত্র ভরসা করে না এবং তাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখে। বিশ্বে এমন কিছু রাষ্ট্র রয়েছে যারা মনে করে, শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো মানচিত্র থেকে ইসরায়েলের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ মুছে ফেলা। শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ইসরায়েলের ধারণার সাথে এই অঞ্চলের বাকি দেশগুলোর মৌলিক বৈসাদৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করার পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিতে কাতারের নেতিবাচক ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, পুরো সাক্ষাৎকারে রিউভেন আজারের সবচেয়ে বিস্ফোরক বক্তব্যটি ছিল হামাসের গতিবিধি সংক্রান্ত। তিনি সরাসরি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে হামাসের কী ধরনের তৎপরতা চলছে, তা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তার দাবি, এই সংক্রান্ত কিছু তথ্য সবার সামনে থাকলেও, আরও অনেক গোপন কর্মকাণ্ড হয়তো জনচক্ষুর আড়ালে পরিচালিত হচ্ছে। ইসরায়েলের মাটিতে হামাস যেভাবে অতর্কিত হানা দিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় অন্য কোনো ‘উগ্রপন্থী’ সংগঠন অন্যত্রও তেমন বড় ধরনের হামলার ছক কষতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেন এই ইসরায়েলি দূত। আজার আরও যোগ করেন, এই ধরনের পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর জন্য বড় ধরনের আশঙ্কার কারণ হওয়া উচিত এবং এই বিষয়ে তারা ইতিমধ্যে ভারতের নীতি-নির্ধারকদের সাথে নিজেদের উদ্বেগের কথা শেয়ার করেছেন। পাকিস্তানের প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাব ছড়ানোর জোরালো অভিযোগ তোলেন এই রাষ্ট্রদূত। তার মতে, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের এই ধরনের নেতিবাচক বক্তব্য ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইসলামাবাদের ইতিবাচক পরিবর্তনের সব সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলি সীমান্তে হামাসের হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার অজুহাতে গাজায় নির্বিচারে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। হামাস দমনের নামে সেখানে সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো পাশবিক হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার সমতুল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বড় অংশই নিরীহ নারী ও শিশু। ঐ বছরেরই শেষভাগে (ডিসেম্বর) জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালত 'ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস' (ICJ)-এ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা, যা পরবর্তীতে বিশ্বের অনেক দেশই সমর্থন করে। প্রিটোরিয়ার পক্ষ থেকে আনা অভিযোগে বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনপদকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করার সুনির্দিষ্ট 'মানস-কামনা' নিয়েই গাজায় এই আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল, যা ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক 'জেনোসাইড কনভেনশন'-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসী আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় আরও এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর বাইরেও, বোমায় বিধ্বস্ত বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজার হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
