|
চুক্তি অমান্য করলেই ইরানে ভয়াবহ বোমা হামলা হুমকি ট্রাম্পের
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ছবি: সংগৃহীত তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরান যদি এই চুক্তি অমান্য করে, তবে ওয়াশিংটন কোনো প্রকার আইনি লড়াইয়ের ধার না ধেরে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রদর্শন করবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে বুধবার আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেই ট্রাম্পের এই কড়া সতর্কতা সামনে আসে। তিনি মন্তব্য করেন, আমি তাদের পরিষ্কার ভাষায় বার্তা দিয়েছি— আমি বলেছি, শুনুন, আপনারা যদি এই চুক্তি অনুযায়ী না চলেন, যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক তা চাই না— তাহলেও আমরা আপনাদের ওপর তীব্র বিমান ও বোমা হামলা চালাতে বাধ্য হব। হোয়াইট হাউস ও তেহরানের কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার ইংরেজি ও ফারসি— দুই ভাষাতেই প্রণীত এই সমঝোতা স্মারকে ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকেই এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে শুরু করেছে। তেহরান চুক্তিটির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার মনে হয় না তারা এই চুক্তি থেকে সরে আসবে। আর তা ছাড়া আমার করারই বা কী আছে? আমি কি বলব যে তোমাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব? আদালতে মামলা ঠুকব? একেবারেই না, তারা যদি এই চুক্তি ভঙ্গ করে, তবে আমরা তাদের ওপর মারাত্মক বোমা হামলা চালাব। আমি বিষয়টি এমন হোক তা চাই না। আমি শুধু চাই তারা যেন এই চুক্তির শর্তগুলোকে সম্মান করে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের বিখ্যাত ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর আমন্ত্রণে একটি রাজকীয় নৈশভোজে অংশ নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প এই সমঝোতা নথিতে সই করেন। বর্তমানে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন ট্রাম্প। সেখানে ইরানকে নিশানা করার পেছনে তার পূর্ববর্তী অন্তত একটি বড় অজুহাত থেকে তিনি সরে এসেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন বলছেন, তেহরানের কাছে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র না থাকাটা হবে এক ধরনের ‘অবিচার’। অথচ এর আগে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছিলেন তিনি নিজেই। আমেরিকার সাথে এই পুরো আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবফ বলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে আমরা যা কিছু অর্জন করতে পারতাম, এই আলোচনার টেবিলে বসে আমরা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সুবিধা আদায় করতে পেরেছি; এর সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনাই হতে পারে না। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
