ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬ ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
একনজরে সারাদিনের বাজেট: কেমন হলো নতুন সরকারের প্রথম বাজেট, কী আছে এতে?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 11 June, 2026, 10:30 PM

একনজরে সারাদিনের বাজেট: কেমন হলো নতুন সরকারের প্রথম বাজেট, কী আছে এতে?

একনজরে সারাদিনের বাজেট: কেমন হলো নতুন সরকারের প্রথম বাজেট, কী আছে এতে?

দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রণীত এই বাজেটটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট, যা দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

সারাদিনের এই বাজেট ঘোষণার মূল আকর্ষণ, সাধারণ মানুষের প্রাপ্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলো একনজরে নিচে তুলে ধরা হলো—


 ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট: লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে আরও উৎপাদনমুখী ও বিকেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রণীত এই বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট।

অর্থমন্ত্রী তাঁর প্রায় ২৩৪ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার বাস্তবতা সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা সামষ্টিক অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করেছি। বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

বাজেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ২৫ লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গঠিত এই প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রিফাইন্যান্সিং তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল।

এই তহবিলের আওতায় ৫টি বিশেষ প্যাকেজ থাকবে:
১. বন্ধ কলকারখানা চালুকরণ ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা।
২. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা।
৩. সিএমএসএমই (CMSME) খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা।
৪. রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা।
৫. উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা।

উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার এই স্কিমে ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজারভিত্তিক সুদের চেয়ে অর্ধেকেরও কম হবে, যা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

 বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে থ্রিআর কৌশল

বেসরকারি খাতের আস্থা ফেরাতে সরকার ৩টি ধাপে ১ থেকে ৫ বছর মেয়াদি বিশেষ থ্রিআর (3R) কৌশল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে:

রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন: প্রথম ১ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।
রেস্টোরেশন: বর্তমান সরকারের মেয়াদের ১ম থেকে ৩য় বছরের মধ্যে অর্থনীতির উত্তরণ নিশ্চিত করা।
রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন: আগামী ৫ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলা।

পাশাপাশি, ব্যবসা পরিচালন সহজ করতে সব বিনিয়োগ সেবা এক ছাতার নিচে এনে বিনিয়ন্ত্রণকরণ-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের পরিবারের আবাসনের জন্য চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আহত ও শহীদ পরিবারের ভাতাভোগীর সংখ্যা আরও ১,৮৫৭ জন বৃদ্ধি করে মোট ১৬,৫১৩ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী আহত ও শহীদ পরিবারগুলো মাসিক ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে এই ভাতা পাবেন।

ব্যবসায়ী ও শিল্প খাতে কর ছাড়

শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের ব্যয় কমানোর স্বার্থে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎস করের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন ব্যবসার করহার প্রথম ৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ অব্যাহতিসহ মোট ১০ বছরের জন্য কর সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ কর হার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ডলাইন: দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার

যোগাযোগ খাতে বড় সুখবর দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমিয়ে আনতে নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লাইনটি নির্মিত হলে ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রুট সংকুচিত হয়ে ২৪০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে ট্রেন চলাচলের সময় ৫ ঘণ্টা থেকে কমে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নামবে এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে পণ্য পরিবহন আরও শক্তিশালী হবে।

৫৫ লাখ পরিবার পাবে ১৫ টাকা কেজিতে চাল

নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের স্বল্প আয়ের ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে বছরের মোট ছয় মাস চাল দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইস্পাত ও রড উৎপাদনে ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব

রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে ইস্পাত শিল্পে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফেরো-অ্যালয়, স্ক্র্যাপ বা শিপ স্ক্র্যাপ, বিলেট, ইনগট এবং এমএস রড উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে প্রতি টনে নির্দিষ্ট ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে। যেমন—বিলেট থেকে উৎপাদিত এমএস রডের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রতি টনে ১,৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা এবং স্ক্র্যাপ থেকে উৎপাদিত রডের ওপর ভ্যাট ১,৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,১০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


Also News   Subject:  জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭   প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬   আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী   তারেক রহমান সরকার   ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট   ২৫ লাখ কর্মসংস্থান   থ্রিআর কৌশল   ১৫ টাকা কেজিতে চাল   ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status