কনসিভ করার পর জানতে পারি স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 11 June, 2026, 4:08 PM
কনসিভ করার পর জানতে পারি স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে
বিয়ের তিন বছর পর যখন টেস্টের রিপোর্টে দুটি গোলাপি দাগ দেখলাম, তখন মনে হয়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমি। বহু প্রতীক্ষার পর মা হতে যাচ্ছি—এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো ছিল না। সেদিনই স্বামীকে খবরটা দিয়েছিলাম। সেও খুশি হয়েছিল, অন্তত তখন আমার তাই মনে হয়েছিল।
গর্ভধারণের প্রথম কয়েক সপ্তাহ খুব সাবধানে কাটছিল। পরিবারের সবাই খেয়াল রাখছিল, ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝেই একদিন হঠাৎ আমার পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেল।
সেদিন রাতে স্বামীর ফোনে একটি মেসেজ আসে। সাধারণত আমি কখনো তার ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাইনি। কিন্তু ফোনটি বারবার বেজে উঠছিল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা কয়েকটি শব্দ আমার চোখে পড়ে যায়। কথাগুলো ছিল এমন, যা কোনো সাধারণ বন্ধুর সঙ্গে বলা হয় না।
প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, হয়তো আমি ভুল বুঝছি। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে আরও কিছু তথ্য সামনে আসে। অবশেষে স্বামী স্বীকার করল, সে কয়েক মাস ধরে অন্য এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত।
সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল, আমি যেন শূন্যে ঝুলে আছি। একদিকে মাতৃত্বের আনন্দ, অন্যদিকে বিশ্বাসভঙ্গের অসহনীয় যন্ত্রণা। আমি কাঁদতাম, আবার পেটের সন্তানের কথা ভেবে নিজেকে সামলে নিতাম। কারণ তখন শুধু আমি একা ছিলাম না, আমার ভেতরে আরেকটি প্রাণ বেড়ে উঠছিল।
অনেক রাত নির্ঘুম কেটেছে। বারবার মনে হয়েছে, কেন এমন হলো? আমার কী দোষ ছিল? কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, কারও প্রতারণা অন্য কারও মূল্য নির্ধারণ করে না। স্বামীর ভুল আমার সম্মান বা যোগ্যতা কমিয়ে দেয় না।
পরিবারের কয়েকজন দায়িত্বশীল মানুষের সঙ্গে কথা বললাম। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে শুরু করলাম। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলাম নিজের এবং অনাগত সন্তানের সুস্থতাকে।
আজও সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে কষ্ট হয়। কিন্তু আমি শিখেছি, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও একজন নারী নিজের শক্তি খুঁজে নিতে পারে। মা হওয়ার অনুভূতি আমাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি। আমি বুঝেছি, আমার জীবনের মূল্য শুধু একজন মানুষের আচরণের ওপর নির্ভর করে না।
কনসিভ করার পর স্বামীর পরকীয়ার খবর জানা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা। কিন্তু সেই ধাক্কা আমাকে শিখিয়েছে—নিজেকে ভালোবাসতে, নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে।