ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬ ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 10 June, 2026, 8:47 PM

প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

সাধারণত প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র। কিন্তু চট্টগ্রামে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদের পাশাপাশি চাকরির নিয়োগপত্রও পেলেন ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীরা। অষ্টম শ্রেণির পর বিভিন্ন কারণে শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৪৬ জন তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশেষ কার্যক্রম—কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক্-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ শীর্ষক কোর্সের সমাপনী ও জব লিংকেজ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক  মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই। একজন তরুণ যখন প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তখন তার জীবন যেমন বদলায়, তেমনি বদলে যায় একটি পরিবার, একটি সমাজ।”

তিনি বলেন, সমাজের অনেক শিশু-কিশোর নানা বাস্তবতায় শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়ে। কিন্তু ঝরে পড়া মানেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তারাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট উচ্চবিদ্যালয় ও হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে চারটি ট্রেডে মোট ৭৭ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৭৩ জনই উত্তীর্ণ হন।

প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানের দিনই ৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেইলারিং ও ড্রেস মেকিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জনের সবাইকে গ্রামীণ বুটিকস ও প্রোডাকশন হাউসে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির শুরুতে তাঁদের মাসিক বেতন ৫ হাজার টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন মাস পর চাকরি স্থায়ী হলে তাঁদের বেতন হবে ১০ হাজার টাকা, পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বহাল থাকবে।

রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৭ জনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষানবিশকালীন তাঁদের মাসিক ভাতা হবে ৫ হাজার টাকা। মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯ জনকে হাটহাজারীর বিভিন্ন সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মাসিক ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন। কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রশিক্ষণ মানেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে। প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ যাতে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি তরুণ রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যাও এর চেয়ে কম। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, “সমাজে কোনো সৎ কাজ ছোট নয়। দক্ষতা, পরিশ্রম, সততা ও নৈতিকতাই একজন মানুষকে বড় করে। আজ যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তারা আর ঝরে পড়া নয়; তারা এখন দক্ষ জনশক্তি।”

চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণদের শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাঁদের ন্যায্য মূল্যায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রথম বেতনের অঙ্ক বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো দক্ষতা অর্জন। দক্ষতা বাড়লে আয়ও বাড়বে, সুযোগও বাড়বে। শেখার কোনো শেষ নেই। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধি, বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার এই উদ্যোগ ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status