|
গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
পাহলভি নয়, ইরানে যাকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() পাহলভি নয়, ইরানে যাকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম দফার বিমান হামলার পরপরই তেহরানের শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের গোপন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। এই পরিকল্পনা মূলত ইসরায়েল তৈরি করেছিল এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছিল। যুদ্ধের শুরুর দিকে মর্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ভেতরের কেউ নেতৃত্ব নিলে সেটি বেশি কার্যকর হবে। সে প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের নাম। তবে পর্যবেক্ষকদের কাছে এটি ছিল অস্বাভাবিক একটি সিদ্ধান্ত। কারণ, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আহমাদিনেজাদ কট্টর ইসরায়েলবিরোধী এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমর্থক ছিলেন এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরিকল্পনায় তার নাম আসা বিস্ময় তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে একটি ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে এই পুরো পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হলেও তিনি সেখানে গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর আহমাদিনেজাদ এবং মার্কিন প্রশাসন—উভয় পক্ষই এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। এরপর থেকে আহমাদিনেজাদকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ অবশ্য এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, অপারেশন এপিক ফিউরির শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, উৎপাদনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরিকল্পনা ছিল বহু ধাপের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য ছিল ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা। এই ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে, গত ৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই সেখানে নিজেদের পছন্দের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব বসাতে সক্ষম হয়েছিল। সেই সফলতার সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সরকার পরিবর্তনের এই বহুধাপ বিশিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেয়। পাহলভি রাজবংশের কাউকে না এনে, ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া এক সাবেক নেতাকে বেছে নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বড় জুয়া ছিল, যা খোদ ট্রাম্পের অনেক উপদেষ্টাই অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন। এই ব্যর্থ অভিযান আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, আনাদোলু এজেন্সি |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
