|
এবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় সরকার, কতটা বাড়ানোর প্রস্তাব
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() এবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় সরকার, কতটা বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলছে, গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আমলে নিয়েছে বিইআরসি। পাইকারির সঙ্গে সমন্বয় করে আনুপাতিক হারে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোরও প্রস্তাব করেছে পিডিবি। সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় নির্বাহী আদেশে। পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ বাড়ে দাম। প্রতি ইউনিট খুচরা বিদ্যুতের দাম গড়ে এখন ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। আর পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৪ পয়সা। এ বিষয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা হয়। তাই পাইকারি দামের প্রস্তাব আমলে নিয়ে কারিগরি কমিটি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি বিতরণ সংস্থার মধ্যে একটি কোম্পানি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আজ-কালের মধ্যেই বাকি বিতরণ সংস্থার প্রস্তাব জমা হতে পারে। কমিশনের নিয়ম অনুসারে, সব প্রস্তাব মূল্যায়ন করবে কারিগরি কমিটি। এরপর মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ ও সব সংস্থার প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের অংশগ্রহণে গণশুনানি করা হবে। শুনানিতে যৌক্তিকতা প্রমাণ করার ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে কমিশন। বিদ্যুৎ খাতে আয়-ব্যয়ের ঘাটতির সঙ্গে সরকারের প্রতিশ্রুত ভর্তুকি সমন্বয় করে দাম বাড়ানোর পরিমাণ ঠিক করা হবে। সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে মুনাফা করছে। সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় নির্বাহী আদেশে। পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ বাড়ে দাম। প্রতি ইউনিট খুচরা বিদ্যুতের দাম গড়ে এখন ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। আর পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৪ পয়সা। বিইআরসি সূত্র বলছে, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। বছরে ৯ হাজার কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি। দেড় টাকা বাড়লে বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বেশি আয় করতে পারবে তারা। আর ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়লে বছরে বাড়তি আয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। পাইকারির বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আনুপাতিক হারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে দাম। গতকাল নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) আনুপাতিক হারে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসির কাছে জমা দিয়েছে। আর সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ১৬ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিতরণ সংস্থার কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে এ সংস্থা। এর জন্য প্রতি ইউনিটে সঞ্চালন চার্জ নেয় তারা। পিডিবি বলছে, দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৩ শতাংশ হলো স্বল্প ব্যবহারকারী, যারা ৭৫ ইউনিটের কম ব্যবহার করেন। স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে না বাড়িয়ে বেশি ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি দাম আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। এতে মূলত ৩৭ শতাংশ ব্যবহারকারীর বিদ্যুৎ বিল বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি খাত অস্থির। জ্বালানির দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে খরচ বেড়ে গেছে। ঘাটতি সামলাতে গত ১৮ এপ্রিল নির্বাহী আদেশে বাড়ানো হয় জ্বালানি তেলের দাম। এর আগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের জন্য গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। দেড় দশকে পাইকারিতে ১২ বার ও গ্রাহক পর্যায়ে ১৪ বার দাম বাড়ায় আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার এসে দাম না বাড়িয়ে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। গত আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ ক্ষমতা আইন করে দরপত্র ছাড়া একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া (ক্যাপাসিটি পেমেন্ট) দিতে গিয়ে ব্যাপক চাপে পড়ে সরকার। যদিও জ্বালানির অভাবে সক্ষমতার অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না। ২০২২ সালের শেষ দিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ক্ষমতা কমিশনের কাছ থেকে সরকারের হাতে নেয় তারা। দেড় দশকে পাইকারিতে ১২ বার ও গ্রাহক পর্যায়ে ১৪ বার দাম বাড়ায় আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার এসে দাম না বাড়িয়ে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। দাম বাড়ানোর ক্ষমতা বিইআরসির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিছু খাতে খরচ কমলেও সেটি তেমন কাজে আসেনি। গত অর্থবছরে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিতে হয়েছে, যা ৫৮ হাজার কোটি টাকা। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ঘাটতি দেখিয়ে দাম বাড়ানোর অজুহাত পুরোনো। মূল্যবৃদ্ধি কোনো সমাধান নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪০ শতাংশ বাড়তি খরচ আছে। এসব খরচ কমিয়ে ভর্তুকি কমানো যেতে পারে। না হলে আগের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কোনো পার্থক্য থাকে না। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
শফিকুল ইসলাম বেবুকে সদস্য সচিব করে কুড়িগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার ৭ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠিত
দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়—তবুও বদলায় না ৮০-তে পা রাখা ছাহেরা বেগমের দুঃখভাগ্য
শেরপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহে ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে র্যালি ও আলোচনা সভা
ফুলবাড়ীতে উন্নত ভুট্টা বীজে বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি
