ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৭ মে ২০২৬ ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন 'ছাত্রলীগ ক্যাডার' সাদিক আব্দুল্লাহ অবশেষে গ্রেফতার
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 11 April, 2026, 11:15 AM

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন 'ছাত্রলীগ ক্যাডার' সাদিক আব্দুল্লাহ অবশেষে গ্রেফতার

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন 'ছাত্রলীগ ক্যাডার' সাদিক আব্দুল্লাহ অবশেষে গ্রেফতার

চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকার তার নিজ বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আগে থেকেই সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান পরিবর্তন করে চলাফেরা করছিলেন। তবে সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হলে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাদিক আব্দুল্লাহ একসময় সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তার নাম ছিল বেশ আলোচিত এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত। কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলে করিম জুনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন তিনি। 

স্থানীয় সূত্র বলছে, কলেজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জুনুর নির্দেশ বাস্তবায়নে সাদিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেই সময় মহসিন কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি অঘোষিত বলয় তৈরি হয়েছিল। ছাত্রাবাসে সিট দখল, নতুন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সাদিক আব্দুল্লাহর নাম জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, সে সময় ক্যাম্পাসে নিরপেক্ষভাবে মত প্রকাশ করা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এছাড়া কলেজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হতো এবং এতে কিছু ক্যাডারের নাম সামনে আসত। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করলে সাদিক আব্দুল্লাহ নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তখন তিনি নিজেকে আড়াল করতে ভিন্ন পরিচয়ে চলাফেরা শুরু করেন এবং ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুনভাবে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

তবে নাম পরিবর্তন বা ভিন্ন পরিচয় গ্রহণ করলেও তার অতীতের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি চাপা থাকেনি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি গোপনে তার আগের রাজনৈতিক অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং পুরনো প্রভাববলয় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তার চলাফেরা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি ছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হয়। তবে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে দীর্ঘদিন আটক করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতারের খবর মুহূর্তের মধ্যে মহসিন কলেজ এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের মাধ্যমে অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মহসিন কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অতীতে ক্যাম্পাসে নানা সময় সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই এমন একজন ব্যক্তির গ্রেফতার অনেকের কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাদিক আব্দুল্লাহ নামটি এলাকায় বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ্যে আসত না। তবে এবার তাকে গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসীর মতে, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একইভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

অনেকেই আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। তাই ক্যাম্পাসকে সহিংসতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।

স্থানীয়রা আরও দাবি করেছেন, অতীতে যারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে করে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস পাবে না।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। তারা চান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবর্তে সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনীতি চর্চা হোক।

সবশেষে স্থানীয়দের অভিমত, সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এর মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যায়নি, বরং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতীতের ঘটনাগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে করে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা আইনের মুখোমুখি হবে।

এখন দেখার বিষয়, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর কী ধরনের অগ্রগতি হয় এবং তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে। তবে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সমাজে একটি শক্ত বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status