ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
তামাকের ভিড়ে ব্যতিক্রম আঙ্গুর চাষ, নজর কাড়ছেন সালাউদ্দিন
মোঃ লোকমান হোসেন,দীঘিনালা
প্রকাশ: Tuesday, 7 April, 2026, 7:26 PM

তামাকের ভিড়ে ব্যতিক্রম আঙ্গুর চাষ, নজর কাড়ছেন সালাউদ্দিন

তামাকের ভিড়ে ব্যতিক্রম আঙ্গুর চাষ, নজর কাড়ছেন সালাউদ্দিন

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় যেখানে অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষক তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন, সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা মো. সালাউদ্দিন। পাহাড়ের চূড়ায় বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষ করে তিনি শুধু ব্যতিক্রমী উদ্যোগই নেননি, বরং সম্ভাবনাময় বিকল্প কৃষির দিকও দেখিয়েছেন।

মেরুং ইউনিয়নের ভূইয়াছড়ি এলাকার এই উদ্যোক্তা ২০২৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করেন। ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে ধারণা নিয়ে ইউক্রেনের ‘বাইকুনুর’ জাতের দুটি চারা দিয়ে শুরু করা উদ্যোগটি এখন প্রায় ১৫ শতক জমিতে বিস্তৃত একটি বাগানে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তার বাগানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৬০ জাতের আঙ্গুর রয়েছে।

সালাউদ্দিনের এই উদ্যোগ শুধু উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি এটিকে একটি ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা মডেলে পরিণত করেছেন। বছরে ৪ থেকে ৫ হাজার চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য আয় করছেন। প্রতিটি চারা ২০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করছে। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি আঙ্গুর উৎপাদনের লক্ষ্যও রয়েছে।

তার বাগানটি ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মানুষ বাগান পরিদর্শন করছেন এবং আগ্রহী অনেকেই চারা সংগ্রহ করছেন। এতে করে স্থানীয়ভাবে আঙ্গুর চাষের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

তবে এই সাফল্যের পথ একেবারে মসৃণ নয়। পাহাড়ি এলাকায় পানির স্বল্পতা বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগের পরও পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সহায়তা না থাকায় উৎপাদন সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, পাহাড়ি এলাকায় উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে আঙ্গুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক প্রযুক্তি ও সহায়তা পেলে এটি বিকল্প অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। কৃষি বিভাগ এ উদ্যোগ পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সালাউদ্দিনের উদ্যোগটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং এটি পাহাড়ি কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার একটি বাস্তব উদাহরণ। বিশেষ করে তামাকের মতো বিতর্কিত ফসলের বিকল্প হিসেবে আঙ্গুর চাষ যদি বিস্তৃত করা যায়, তবে তা পরিবেশ ও অর্থনীতি—উভয় দিক থেকেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status