ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬ ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
অটো রিকশা পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে মানবিক ডিসির কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী দম্পতি
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 3 March, 2026, 5:30 PM

অটো রিকশা পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে মানবিক ডিসির কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী দম্পতি

অটো রিকশা পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে মানবিক ডিসির কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী দম্পতি

চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা সাইরা তাসসিন ও শহিদুল আলম—দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। সাইরার উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট ১০ ইঞ্চি, আর স্বামী শহিদুলের উচ্চতা ৪ ফুট। এক কন্যা সন্তান ও বৃদ্ধ পিতামাতাকে নিয়ে তাদের ছোট্ট সংসার—অভাবই ছিল নিত্যসঙ্গী।

এইচএসসি পাশ করা শহিদুল আলম পুরোনো একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালিয়ে কোনোমতে দুই বেলা ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু সেই অটো রিকশাটি বিকল হয়ে গেলে পরিবারের একমাত্র আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।

সহায়তার আশায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর এক পর্যায়ে তারা দেখা করেন চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা অফিসার ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি তাদের পরামর্শ দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত এই প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাজির হন দম্পতি।

জেলা প্রশাসক তাদের দুর্দশার কথা শুনেই তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলামের সঙ্গে। তিনি অনুরোধ জানান—জেলা পরিষদের তহবিল থেকে যেন এই অসহায় পরিবারের জীবিকার জন্য একটি অটো রিকশা অনুদান দেওয়া হয়।

মানবিক এই আহ্বান উপেক্ষা করতে পারেননি উপসচিব চৌধুরী রওশন ইসলাম। তিনি আবেদনকারীকে তার কাছে পাঠাতে বলেন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোতাহার হোসেন আজ  মঙ্গলবার (৩রা মার্চ) নতুন একটি অটো রিকশা হস্তান্তর করা হয় শহিদুল আলমের হাতে।

রিকশা পেয়ে আবেগাপ্লুত শহিদুল এবং তার স্ত্রী  সোজা চলে আসেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে—উদ্দেশ্য একটাই, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাইরা তাসসিন বলেন,“মানবিক ডিসি স্যার আমাদের জন্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ না করলে হয়তো রিকশাটি পেতাম না। আমার স্বামীর একমাত্র রোজগারের পথ এই রিকশাই।”

আরও বলেন, “আমি বর্তমানে ডিগ্রি পড়ছি। একটি চাকরি হলে আমাদের শিশু কন্যা তাহরিমা তাসনিম ইনাইয়াকে আরও ভালোভাবে বড় করতে পারতাম।”
শহিদুল আলমও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন,“শুনেছি মানবিক ডিসি স্যার সাধ্যমতো সবাইকে সাহায্য করেন। নিজ দায়িত্বের বাইরে হলেও  মানবিক কারণে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান বিভিন্নভাবে। আজ আমরা তার প্রমাণ পেলাম।”

চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান,“ডিসি স্যার এই প্রতিবন্ধী দম্পত্তির জন্য আমার কাছে সুপারিশ করেছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে আজ জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোতাহার হোসেন স্যার রিকশাটি হস্তান্তর করেছেন।”

একটি অটো রিকশা—কারও কাছে হয়তো সাধারণ একটি যানবাহন। কিন্তু সাইরা ও শহিদুলের পরিবারের কাছে এটি বেঁচে থাকার অবলম্বন, নতুন স্বপ্নের সূচনা। আর এই মানবিক উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম —যার হহস্তক্ষেপে একটি অসহায় পরিবার ফিরে পেয়েছে নতুন জীবনের।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status